গ্রুপ পর্বে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ঠিক পরের ম্যাচে সেই দুরন্ত বাংলাদেশ যেন অচেনা। গতকাল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না সাকিব আল হাসানের দল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৯৩ রানের পুঁজি গড়া বাংলাদেশ হেরেছে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে।
হারিস রউফ ও নাসিম শাহর গতি বলের সামনে অসহায় বাংলাদেশ ৩৮.৪ ওভারে ১৯৩ রানে গুটিয়ে যায়। শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার একটি। তিন পেসার নেন আট উইকেট। এরপর ইমাম-উল-হক (৭৮) ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের (৬৩*) ব্যাটে ভর করে সহজ জয় তুলে সুপার ফোরে শুভসূচনা করল পাকিস্তান।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নেন সাকিব। তবে আগের ম্যাচের মতো চিত্রনাট্য লেখা হলো না এবার। ইনিংসে শুরু আর শেষের মধ্যে দারুণ মিল! পাকিস্তানের পেস তোপে ৪৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় অতিথি দল। মাঝে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম হাল ধরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১০০ রান যোগ করেন। ইনিংসের সৌন্দর্য বলতে এটুকুই। এরপর আরেকবার ব্যাটিং ধসে ১৯৩ রানে শেষ ইনিংস। প্রথম ১০ ওভারে পড়েছে ৪ উইকেট। আর শেষ ১৫ রানে ৫টি এবং ৩ রান ও ৯ বলের মধ্যে পড়েছে শেষ ৪টি উইকেট।
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড় সাকিব ও মুশফিক বিপদের সময় হাল ধরে ১০০ রানের জুটিতে দলের সংগ্রহটা ৪৭ থেকে ১৪৭ পর্যন্ত টেনে নেন। খানিকটা আগ্রাসী মেজাজে খেলা সাকিব ৫৭ বলে ৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৪ রান করে ফাহিম আশরাফের শিকার হন। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে তিনি ক্যাচ তুলে দেন ফখর জামানকে। শর্ট অব লেংথ বলে পুল করতে গেলেও বলটি পুলের জন্য আদর্শ ছিল না। ফলে ঠিকমতো টাইমিং না হওয়ায় ক্যাচ উঠে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আড়াইশ রানের স্কোরের সুযোগেও যেন বড় ধাক্কা লাগে।
সাকিবকে হারানোর পর শামীমকে নিয়ে ৩৩ বলে ২৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। মাত্রই দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলা শামীম সাজঘরে ফিরে গেলে আফিফকে নিয়ে ১৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু এরপর আর এগোতে পারলেন না মিডল অর্ডারের নির্ভরতা মুশফিক। হারিস রউফের লেংথ ডেলিভারিতে মারতে গেলে ক্যাচ দেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। অনেকটা উঁচুতে লাফিয়ে ক্যাচ নেন রিজওয়ান (১৯০/৭)।
এরপর ৩ রানের মধ্যে তাসকিন, আফিফ ও শরিফুলের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রউফের বলে রিজওয়ানকে ক্যাচ দেন তাসকিন। এরপর এক ওভারের মধ্যে আফিফ ও শরিফুলকে ফেরান নাসিম শাহ।
হারিস রউফ ১৯ রানে ৪টি, নাসিম ৩৪ রানে ৩টি ও শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪২ রানে ১টি উইকেট নেন। ফাহিম আশরাফ ও ইফতিখার আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৯৩-এর কম সংগ্রহ নিয়ে মাত্র দুবার ওয়ানডেতে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৪ রানের পুঁজি নিয়েও জিতেছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে এডিনবরায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৫ রানের পুঁজি নিয়েও জয়লাভ করে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলে তেমনটি প্রত্যাশা করা যায়নি।
হার শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘শুরুর দিকে আমরা বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি এবং খুবই গড়পড়তা শট খেলেছি। এমন উইকেটে প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারানো কোনোভাবেই উচিত নয়, কিন্তু সেটাই ঘটেছে। আমাদের পার্টনারশিপটা ভালোই হয়েছে। মনে করেছিলাম আরো ৭-৮ ওভার খেলব। এমন উইকেটে এটা খুবই দুর্বল ব্যাটিং প্রদর্শনী। যদিও আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রতিপক্ষকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বিশ্বের এক নম্বর দল। তাদের আছে তিনজন বিশ্বমানের বোলার, যারা দলের কাজ সহজ করে দেন। আমরা বোলিং বিভাগে ভালোই করে যাচ্ছি। তবে ব্যাটিংয়ে আমাদের আরো ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।’ শনিবার কলম্বোয় সুপার ফোরের পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। পরদিন ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৮.৪ ওভারে ১৯৩/১০ (মুশফিক ৬৪, সাকিব ৫৩, নাঈম ২০; হারিস ৪/১৯, নাসিম ৩/৩৪)। পাকিস্তান: ৩৯.৩ ওভারে ১৯৪/৩ (ইমাম-উল-হক ৭৮, রিজওয়ান ৬৩*, সালমান ১২*; শরিফুল ১/২৪, তাসকিন ১/৩২, মিরাজ ১/৫১)। ফল: পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হারিস রউফ (পাকিস্তান)।










