সাংবাদিক গোলাম ফারুকের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর ঈদুল আজহার দিনে তিনি প্রয়াত হন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। গোলাম ফারুক মৃত্যুকালে বণিক বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ময়মনসিংহ শহরের পৈত্রিক বাড়িতে গিয়েছিলেন গোলাম ফারুক। ঈদ উদযাপন শেষে রাত ৯টার দিকে ঢাকায় ফেরার পথে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে গোলাম ফারুক রাত পৌঁনে ১০টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

গোলাম ফারুক ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করার সময়ই জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে। এরপর ঢাকায় এসে গড়ে তোলেন দেশ নাটক।

থিয়েটারের পাশাপাশি সাংবাদিকতা শুরু করেন গোলাম ফারুক। ১৯৯৩ সালে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তারকালোকে। ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে একঝাঁক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন আনন্দভুবন টিম। অভিনব উপস্থাপনায় কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সাময়িকীটি।

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অঙ্গনে বিচরণ ছিল তার। সাপ্তাহিক ছেড়ে তিনি ১৯৯৮ সালের দিকে যোগ দেন ওই সময়ের নতুন ধারার সংবাদপত্র ‘ভোরের কাগজ’-এর ফিচার বিভাগে। সৃজনশীল নির্মাণের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০০০ সালের দিকে গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাবটেক্স। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন নিজেই। এখান থেকে বেরিয়ে আসে ‘চতুর্থমাত্রা’, ‘ফুলকুমার’-এর মতো কালজয়ী নির্মাণ।

২০০৫ সালে ‘সমকাল’ প্রকাশের আয়োজন শুরু হলে যোগ দেন ফিচার সম্পাদক হিসেবে। ২০০৯ সালে এবিসি রেডিওতে যোগ দেন হেড অব প্রোগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে। ২০১১ সালে যোগ দেন বণিক বার্তা পরিবারে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানেই কর্মরত ছিলেন গোলাম ফারুক।

গোলাম ফারুকের বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের নাহা রোডে। তার বাবা মো. মোসলেম উদ্দিন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।