বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আয়োজিত তিনদিনের লালন মেলা ও অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়। আলোচনা সভা, লালনসংগীত, সাধুসঙ্গ ও মেলাকে ঘিরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে তিরোধান দিবসের ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে।
লালনের স্মৃতিবিজড়িত ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিনদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাউল সাধক, অনুসারী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও লালনভক্ত ও তার দর্শনের অনুসারীরা এ আয়োজনে অংশ নেন। তবে পুরো আয়োজনেই ছিল তিরোধান দিবসের শোক, শ্রদ্ধা ও সাধনার আবহ। লালনের গান, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তার মধ্য দিয়েই তাকে স্মরণ করেন ভক্ত-অনুসারীরা।
তিনদিনের অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, বাউল গান, সাধুসঙ্গ ও মেলার আয়োজন করা হয়। লালনের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা তার অহিংস, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন সমাজের গভীর থেকে গভীরে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, লালন কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ের মধ্যে তার দর্শনকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মানুষের পরিচয়কে সবার আগে স্থান দিয়ে তিনি জাত-পাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতিই ছিল তার দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।










