গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রের সবগুলো বিভাগ চুরির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল এবং আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের যৌথ প্রচেষ্টায় চামচা পুঁজিবাদ থেকে চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিড) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির কে করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন আলোচনা এবং ডকুমেন্টস থেকে আমরা দেখেছি যে প্রথমত রাজনীতিবিদদের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সবচেয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা হয়েছে আমলাদেরকে।

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিপরায়ন খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত ছিল দুর্নীতির সর্বোচ্চ চূড়ায়। এরপর রয়েছে অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাত। আর প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হলেও সেগুলা ধরা অনেক কঠিন। কারণ একটি ১০০ টাকার অ্যাপ হয়তো লাখ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশ তছরুপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। ড. দেবপ্রিয় আরো বলেন, আমাদের কাজ চোর ধরা নয়, চুরির বর্ণনা দেয়া। আর বিগত সময়ে পরিসংখ্যানগত উন্নতি দেখানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি যোগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনটি দুর্বল নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস তৈরি করা হয়েছে। সে সময় নাগরিক সমাজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই ম্রিয়মাণ হয়ে এসেছিল।