আগামী বছরগুলোয় হজের ব্যয় আরো কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আব্দুল্লাহর লিখিত প্রশ্নে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে এ জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাসের ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ উপলক্ষে বাংলাদেশী হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত, উন্নত আবাসন এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা দিয়েছে।

তিনি জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরির তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় মক্কায় মসজিদুল হারামের বহিঃচত্বর থেকে যথাক্রমে ৭০০ মিটার, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং ১ দশমিক ৫ কিলোমিটারের মধ্যে উন্নত মানের হোটেল ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনায় অবস্থানরত বাংলাদেশী হাজিদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্ট নিয়ে হজ মেডিকেল টিম নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি খরচে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাও প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, হজযাত্রা আরো সহজ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এছাড়া হাজিদের জন্য মোবাইল রোমিং এবং হজ প্রি-পেইড কার্ডের বিশেষ সুবিধাও চালু রয়েছে।

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, আগামী বছরগুলোতে হজের ব্যয় আরো কমিয়ে আনতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, সৌদি সরকারের মিনিস্ট্রি অব হজ অ্যান্ড উমরার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ, মোয়াল্লেম ফি এবং মিনা-আরাফাতের তাঁবুর ব্যয় কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে হজ-সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করতে ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টার (১৬১৩৬) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের সুবিধাও চালু রয়েছে।