বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেয়া ১৩ জন জেলেকে সাহায্যের বদলে মারধর ও মাছধরা ট্রলারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ জেলেরা আরো জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেয়ে ট্রলার রেখে তাদের গহিন বনে ছেড়ে দেন বনকর্মীরা। উপায়ন্তর না দেখে তারা তিনদিন বনের মধ্যে হেঁটে লোকালয়ে ফেরেন। গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।
জেলে ও ট্রলার মালিক মো. আব্দুর রশিদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৭ মে পাস-পারমিট নিয়ে দুটি ট্রলারযোগে আমরা ১৩ জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাই। ১৪ মে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় দিক ভুল করে আমরা সুন্দরবনের বেহালা কয়লা খালে এসে আশ্রয় নিই। ওইদিন সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, বনরক্ষী রাসেলসহ কয়েকজন ট্রলারে উঠে আমাদের মারধর শুরু করেন। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখান। এ সময় তারা ট্রলারে থাকা ১৫ মণ মাছ, জাল, জ্বালানি তেল ও নগদ ৪২ হাজার টাকা লুটে নিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় পাস-পারমিটের কাগজ কেড়ে নেন। পরে তারা ট্রলার রেখে আমাদের বনের গহিনে ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন, আমরা বনের মধ্যে তিনদিন হেঁটে পরে একটি নৌকায় হিরণ পয়েন্টে পৌঁছাই। এরপর সেখান থেকে ট্রলারযোগে লোকালয়ে ফিরে আসি। ফিরে এসে সুন্দরবন বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী ক্যাম্পে গিয়ে আটকে রাখা ট্রলার ফেরত চাইলে কর্মকর্তারা
১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে টাকা দেব। ট্রলার ফিরে না পেলে বেকার হয়ে বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না আমাদের।
এ ব্যাপারে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ওইদিন দুটি ট্রলারে বেশ কয়েকজন জেলে অভয়ারণ্যে ঢুকে পড়েন। তাদের বেপরোয়া চলাচল দেখে বনরক্ষীরা গুলি ছোড়ে। তখন তারা বনের গহিনে পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে আমরা তাদের ট্রলার আটকে আসামি অজ্ঞাত রেখে মামলা করেছি।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, কয়েকজন জেলেকে ধাওয়া করার বিষয়টি স্টেশন কর্মকর্তা আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে। সংবাদ সম্মেলনে জেলেরা যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে।










