মুগদা বিশ্বরোড এলাকার অতীশ দীপঙ্কর সড়ক থেকে মান্ডা ব্রিজ পর্যন্ত ৬৩৫ মিটার সড়কের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫ বছর পর শুরু হওয়া সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। উচ্ছেদ করে উদ্ধার করা জায়গায় আবারো স্থাপনা নির্মাণ করছেন বাড়ি মালিক ও দোকান মালিকরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কে সরেজমিন ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ঠিকাদারকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে খুঁজতেছি। কাউন্সিলরও নাই। কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমাকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি মে মাসে দায়িত্ব নিয়েছি। এখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
ওয়ার্ক অর্ডার, বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ কবে শেষ হবে, নথি দেখে বলতে হবে। তবে, বরাদ্দ অর্থের পুরোটাই আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন।
বড় মসজিদ এলাকায় মসজিদের কিছু অংশ এখনো ভাঙা হয়নি কেন এই বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কেউ কেউ নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। শিগগির সেগুলো উদ্ধার করা হবে।
একই অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ঠিকাদার জানিয়েছেন, তার নির্মাণ সামগ্রী লুট হয়েছে। সেজন্য কাজ করতে পারছেন না। ৬৩৫ মিটারের এই সড়কের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাশার টাওয়ার চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন ১২৬/২/ক ঠিকানার আরব সেন্টার ভবনটিতে ভাঙা অংশ মেরামত করে দোকান চালু করা হয়েছে। একইভাবে মুগদা বিশ্বরোডের মুখে অবস্থিত ভবনটিতেও ভাঙা অংশ মেরামত করে একটি দোকানে কনফেকশনারি চালু করা হয়েছে। আরেকটি প্রস্তুত করা হয়েছে। আরেকটু সামনে এগিয়ে দেখা যায়, খালি জায়গায় রাস্তার ওপর দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। তার বিপরীত পাশে নাজিয়া ফার্মেসি যেখানে ছিল, সেখানেও পুনরায় দোকান চালুর জন্য মেরামত শুরু হয়েছে।
এছাড়া বর্জ্য অপসারণ করে রাস্তার ওপরই বস্তা ভরে রাখা হয়েছে। সেগুলো বৃষ্টির পানিতে আবারো ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। ফুটপাতের দোকানদাররা তাদের বর্জ্যগুলো মান্ডা ব্রিজ অংশে মান্ডা খালে ফেলছেন। এতে খালে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও পানি অপসারণে বাধা তৈরি হচ্ছে।
গত ২১ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে রাস্তার দুই পাশের দোকান ও বাড়িগুলোর কিছু অংশ ভেঙে দেয়। অভিযানে পাঁচ শতাধিক দোকান ও বাড়ির কিছু অংশ গুড়িয়ে দেয়া হয়।
তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছিলেন, ড্যাপের নকশা অনুযায়ী ৫০ ফুট প্রশস্ত করার লক্ষ্যে সড়কের উভয় পাশের স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সে আলোকে ভবন মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমরা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে তাদের অনুরোধও করেছি।
রাস্তাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সড়কের প্রশস্ততা রয়েছে গড়ে ১৭ ফুট। সড়কের উভয় পাশে ৫ ফুট করে ১০ ফুট ফুটপাত ও দুই সারির (ডবল লেন) ৪০ ফুট মূল সড়ক তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।
মুগদা সড়কটি ৫০ ফিটে প্রশস্ত করার বিষয়ে রাজউকের অথোরাইজড অফিসার শহিদুল ইসলাম সেই সময় বলেছিলেন, এখানকার ভবনগুলোকে নকশার অনুমোদনপত্র দেখাতে বারবার নোটিশ দেয়া হলেও তারা কেউ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেনি। রাজউকের নকশা না মেনে অথবা অনুমতি না নিয়েই রাস্তার দুই পাশে এসব ভবন গড়ে তুলেছে তারা। যেহেতু তারা অনুমোদন নেয়নি আর সংকীর্ণ রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাই তাদের সঙ্গে অভিযানে যুক্ত হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
তার আগে ২০১৯ সালের দিকে মান্ডা ব্রিজ থেকে গ্রিন মডেল টাউন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক কোথাও ৫০ ফিট, কোথাও ১০০ ফিটে প্রশস্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ওই অংশেও রাস্তা ও ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দখল করা হয়েছে। এতে সংকীর্ণ হয়ে সড়ক আগের মতোই হয়ে গেছে।










