হৃদরোগীদের সেবা দিতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয় করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। এজন্য ২০০৫ সালে ৫ কোটি টাকায় তিনতলা ভবনও নির্মাণ করা হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতিও লাগানো হয়েছিল। তবে করোনারি কেয়ার ইউনিট থেকে ইসিজি, প্রেশার মাপা ও হৃদরোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কোনো কিছুই পাচ্ছে না রোগীরা। এমনকি ইকো, এনজিওগ্রামও করা হয় না। এসিও বেশির ভাগ সময় অকেজো এখানে। ১২টি এসির মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র চারটি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর ইউনিটটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরে পর্যায়ক্রমে ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইটিটি, কার্ডিওয়াক মনিটর, কালার ডপলার, ডিজিটাল ইসিজি মেশিন বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ওই সময় ২৪ জন চিকিৎসক, ৫৬ জন নার্স ও ১৪৩ জন কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কয়েক দফায় ইউনিটটি চালুর সময় পিছিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০০৯ সালের ১২ জুলাই করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু হয়। তবে সংকট রয়েই গেছে। কেয়ার ইউনিটে ২৮টি শয্যায় রোগী ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ সে অনুযায়ী, প্রত্যেক রোগীর জন্য একজন চিকিৎসক ও দুজন সেবিকা থাকার কথা। তবে বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ইউনিটের নিজস্ব কোনো চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী নেই। যশোর মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী দিয়ে সেখানে সেবা দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার করোনারি কেয়ার ইউনিটে ৭৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছেন না। প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্রে সুস্থ না হলে রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করে দিচ্ছেন।
রোগী ও স্বজনরা জানান, সকালে চিকিৎসকরা রাউন্ডে আসেন। কিন্তু বিকালের পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলে না। জরুরি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রারের পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক। জোড়াতালি দিয়েই ইউনিটটি পরিচালিত হচ্ছে।
করোনারি ইউনিটে ভর্তি শার্শা উপজেলার নূর হোসেন (৭৫) জানান, চারদিন ধরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গরমের কারণে অস্বস্তি বোধ করছেন। নিচে দুটি এসি থাকলেও তা নষ্ট। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না করোনারি কেয়ার ইউনিটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ইকো, ইটিটি, কার্ডিয়াক মনিটর, কালার ডপলার মেশিন বছরের পর বছর অকেজো অবস্থায় ওয়ার্ড ইনচার্জের স্টোরে পড়ে রয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে হার্টজনিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীরা ক্লিনিকে ছুটছেন।
ইউনিট পরিচালনাকারী যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুণ অর রশিদ জানান, করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভবন ছাড়া নিজস্ব কোনো কিছুই নেই। অথচ হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্য দিয়েও তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যন্ত্রপাতি থাকলে এখানেও উন্নত চিকিৎসা করা সম্ভব। আগের তত্ত্বাবধায়কের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৭৯ পদ সৃষ্টির জন্য পরিপত্র পাঠিয়েছিলেন। ৪৬টি পদ সৃষ্টির সাড়া মিললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।










