এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান মহারণের উত্তেজনায় যেন জল ঢেলে দিল বেরসিক বৃষ্টি। গতকাল শ্রীলংকার পাল্লেকেলেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠে শেষ পর্যন্ত ৪৮.৫ ওভারে ২৬৬ রানে অলআউট হয় ভারত। চেজ করতে নেমে ২৬৭ রানের টার্গেটে পাকিস্তান সফল হতো কিনা সেটি দেখার সুযোগই দিল না বৃষ্টি। দফায় দফায় বৃষ্টি হানা দিলে পাকিস্তান ব্যাটিংয়েই নামতে পারেনি। ফলে দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয়। 

স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত সময় ছিল ম্যাচ শুরুর। কিন্তু সেটি সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা এতে ফলহীন ঘোষণা করেন। ফলে দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে। 

এই এক পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান উঠে গেছে সুপার ফোর পর্বে। গত ৩০ আগস্ট মুলতানে তারা ২৩৮ রানে নেপালকে হারিয়ে দুই পয়েন্ট পায়। সোমবার নেপালের বিপক্ষে খেলবে ভারত। ওই ম্যাচে জিতলেই রোহিত শর্মার দল সুপার ফোরের টিকিট পাবে। 

পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল বৃষ্টিতে কয়েক দফায় খেলা বন্ধ ছিল। প্রথম দফায় বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে শাহিন শাহ আফ্রিদি পরপর দুই ওভারে সাজঘরে ফিরিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলিকে। পঞ্চম ওভারে রোহিতকে (২২ বলে ১১) বোল্ড করেন আফ্রিদি। পরের ওভারের তৃতীয় বলে পরাস্ত করেন কোহলিকে (৭ বলে ৪)। সিঙ্গেল নেয়ার উদ্দেশ্যে শট খেলতে চেয়েছিলেন কোহলি। যদিও পিচে বল খুব দ্রুত আসছিল বলে তিনি পরাস্ত হন এবং ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড। 

ভারতের তৃতীয় উইকেটটি শিকার করেন আরেক পেসার হারিস রউফ। দশম ওভারের পঞ্চম বলে শ্রেয়াস আইয়ারকে (৯ বলে ১৪) ফখর জামানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। শুরু থেকে ভালো খেলছিলেন শ্রেয়াস। যদিও এ বলটিতে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। শুরু থেকে প্রচণ্ড ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছিলেন ওপেনার শুভমান গিল। একটি সময় ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তার। হারিস রউফের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি (৬৬/৪)। 

এরপর দারুণভাবে খেলায় ফেরে ভারত। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪১ বল খেলে ১৩৮ রান তুলে ভারতের স্কোরবোর্ডটা সমৃদ্ধ করেন ইশান কিশান ও হার্দিক পান্ডিয়া। জুটিতে দুজনের অবদান ছিল সমানে সমান। ইশান ৬৬ ও পান্ডিয়া ৬৯ রান করেন। দলের রান ২০০ পার হওয়ার পর রউফের শিকার হন ইশান। পুল করতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে নেন বাবরকে। তার আগে ৯টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কায় ৮১ বলে ৮২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন ইশান। 

এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন পান্ডিয়া। ইনিংসটাকে অবশ্য সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারলেন না। পান্ডিয়া ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৯০ বলে ৮৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফ্রিদির শিকার হয়ে (২৩৯/৬)। ওই ওভারেই জাদেজাকেও (২২ বলে ১৪ রান) শিকারে পরিণত করেন পেস তারকা আফ্রিদি (২৪২/৭)। পরের বলে শার্দুল ঠাকুরকে (৩) সাজঘরের পথ দেখান নাসিম শাহ। 

নবম উইকেটে ১৯ রান যোগ করে পাকিস্তানকে বেশ ভুগিয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ ও কুলদীপ যাদব। দুজনকেই এক ওভারের মধ্যে আউট করে পাকিস্তান দলে স্বস্তি ফেরান নাসিম। 

ভারতের উইকেটগুলো ভাগাভাগি করেন পাকিস্তানের তিন পেসার। আফ্রিদি ৩৫ রানে ৪টি, নাসিম ৩৬ রানে ৩টি ও রউফ ৫৮ রানে ৩টি উইকেট নেন। তিন স্পিনার শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও আগা সালমান ২১ ওভারে ১৩৩ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। 

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এখন পর্যন্ত ১৩৩টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ৭৩টিতে ও ভারত ৫৫টিতে জিতেছে। ফলহীন ৫টি ম্যাচ। এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৪ বারের লড়াইয়ে ভারত ৭টি ও পাকিস্তান ৫টি জিতেছে। আর টি২০ ফরম্যাটে তিনবারের দেখায় ভারত ২টি ও পাকিস্তান ১টিতে জিতেছে। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপে ১৬ বারের মোকাবেলায় ভারত ৯টি ও পাকিস্তান ৬টি ম্যাচ জিতেছে।