সবুজ দূর্বা ঘাসে লেগে আছে ভোরের কুয়াশা। তখনো উঁকি দেয়নি সূর্য। অথচ গ্রামীণ জনপদে জমে উঠেছে নবান্নের মাছের মেলা। মাছের মেলায় হরেক রকম ক্রেতা এসে দরদামে সাধ্যমতো বড় মাছ কিনছেন। বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় পৃথকভাবে দুটি মাছের মেলায় ২১ কেজির ব্লাড কার্প, ১০ কেজির কাতল থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকারের মাছ তোলা হয়। মেলা ঘিরে মেয়ে জামাই ও আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে নতুন চালের পিঠা-পায়েসও খাওয়ানো হয়। 

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, একদিনের মেলায় প্রায় কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। 

জানা যায়, জেলার শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রামে প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণের প্রথম দিনে নতুন ধান কাটার পর তারা নবান্ন উৎসব হিসেবে দিনটি উদযাপন করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, গতকাল ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। প্রতি বছরের মতো এবারও বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নবান্ন উপলক্ষে বসে মাছের মেলা। মাছের মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মেলায় মাছ কিনতে আসেন ক্রেতারা। মেলা উপলক্ষে আশপাশের উথলী, বেড়াবালা, পাইকপাড়া, দেবীপুর, বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, গণেশপুরসহ ১০-১২টি গ্রামের মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের দাওয়াত দেয়া হয়। নবান্নে মেলা থেকে কেনা মাছ ও নতুন সবজি দিয়ে আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়ন করা হয়। মেলায় শতাধিক দোকানে রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প, চিতল, বাগাড়, বোয়াল, ব্লাড কার্প, ইলিশ, কার্ফু মাছ বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ রাজশাহী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এনেছেন পাইকাররা। একদিনের এ মেলায় বিল ও নদীর মাছের পাশাপাশি স্থানীয় পুকুরে চাষ করা মাছও বিক্রি হয়। মেলায় প্রতিটি মাছের ওজন ৩-২১ কেজি পর্যন্ত হয়। ২১ কেজি ওজনের সবচেয়ে বড় ব্লাড কার্প মাছটির প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়। এছাড়া ১০ কেজি ওজনের কাতল, ১২ কেজি ওজনের সিলভার কার্প মাছও উঠেছে দুটি উপজেলার মাছ মেলায়। মেলায় আকারভেদে রুই ৩০০-৬০০, কাতলা ৩০০-৭০০, ব্রিগেড ২৫০-৫০০, গ্রাস কার্প ৬০০-৭০০, সিলভার কার্প ২৫০-৬০০, চিতল ৫০০-৮০০, বাগাড় ৮০০-১০০০, বোয়াল ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।