সম্প্রতি পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

ভার্চুয়াল সিরিজ ‘আজকের এজেন্ডার’ অংশ হিসেবে আয়োজিত সংলাপটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্র্যাটেজিক অপশনস ইন অ্যা পোলারাইজিং ওয়ার্ল্ড: হোয়াট ইজ দ্য কমপেলিং ক্যালকুলাস ফর বাংলাদেশ’। এতে পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কৌশলগত গবেষকদের একটি বিশিষ্ট প্যানেল অংশ নেয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক শক্তির মেরুকরণ এবং নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে।

সংলাপে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক শক্তির কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় তিস্তা নদী প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল উদ্যোগগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি চতুর্পক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে ক্যাওকফিউ-চট্টগ্রাম ট্রান্সশিপমেন্ট করিডোর প্রতিষ্ঠা দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে স্থিতিশীলতা আনার একটি বাস্তবসম্মত ভূ-অর্থনৈতিক বিকল্প হতে পারে।’

আঞ্চলিক জ্বালানি করিডোর নিয়ে বক্তব্য দেন ভূরাজনৈতিক পরামর্শক ম্যাট ইয়াং। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে চীনের সম্পৃক্ততা মূলত বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। চীন এরই মধ্যে সাইবেরিয়ান ও কাজাখ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করে সমুদ্রপথের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।’

আরো বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, লরেনশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম।

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কার্যকর ভূরাজনীতি আদর্শিক বক্তব্যের চেয়ে ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে।’