সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা ও তাদের স্বজন এবং ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারে আরো প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটায় নতুন ১১টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে ওই কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ১৫টি মামলা করা হয়েছিল। এ নিয়ে ওই চক্রের বিরুদ্ধে প্রায় ৫১ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৬টি। দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর-ই আলম বাদী হয়ে মঙ্গলবার নতুন ১১টি মামলা করেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া প্রাকৃতিক গ্যাস সার কারখানা (এনজিএফএফ) দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গোনায় পাশেই প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে শাহজালাল সার কারখানা লিমিটেড। তবে নানা কারণেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে কারখানাটি। অভিযোগ ছিল, সাবেক সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ও হিসাব বিভাগীয় প্রধান (বরখাস্ত) খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল এবং প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লুটপাট করছিল। অভ্যন্তরীণ তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়লে বরখাস্ত হন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও রসায়নবিদ নেছার উদ্দিন আহমদ। বরখাস্তের পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দুদকের অনুসন্ধানে তাদের চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পায় দুদক। এরপর একের পর এক মামলা হচ্ছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।

দুদক সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও নেছার উদ্দিন আহমদসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত চলছিল। এর অংশ হিসেবে তদন্তে আরো প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা মামলা করে দুদক। নতুন ১১টি মামলায় খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল, তার স্ত্রী মেসার্স টিআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক হালিমা আক্তার, শ্যালক মেসার্স ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. জামশেদুর রহমান খন্দকার, প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদ ও ঠিকাদার মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হেলাল উদ্দিন ও ঠিকাদার মাসুদ রানাকে আসামি করা হয়েছে।