সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো নৌযান শ্রমিদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে মোংলা বন্দর। ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে সারাদেশে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল। ফলে জনদুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন’র (কেন্দ্রীয়) সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম জানান, নৌযান ও নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী নৌযান শ্রমিককে ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানী বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা ও মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন, যাত্রীবাহী লঞ্চের পূর্ণাঙ্গ গেজেট বাস্তবায়ন না করা, সদর ঘাট, নারায়ণগঞ্জ ও নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ঘাটে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিসহ ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন নৌযান শ্রমিকেরা।
 
দেশের বিভিন্নস্থানে থাকা প্রায় ২০ হাজার নৌযানের (কার্গো, কোস্টার, বাল্কহেড, বার্জ ও লঞ্চ) প্রায় ২ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী তাদের কাজ কর্ম বন্ধ রেখে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ১১ দফা দাবির বিষয়ে গত ২৭ নভেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব উঠে আসলেও সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরপরেই কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

একই দাবিতে এর আগে গত ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন নৌযান শ্রমিকেরা। এরপর দাবি পূরণের আশ্বাসে তারা কর্মবিরতি স্থগিত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই সকল দাবি বাস্তবায়ন হওয়ায় পুনরায় আবারো কর্মবিরতি শুরু করছেন নৌযান শ্রমিকেরা।