প্রথিতযশা সাংবাদিক, রাজনীতিক, লেখক ও সমাজচিন্তক নির্মল সেনের ৯৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্ম তার। বাবা সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত ও মাতা লাবণ্য প্রভা সেন গুপ্ত।

১৯৪৬ সালে নির্মল সেনের পিতা-মাতা তাদের চার পুত্র ও তিন কন্যাকে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে দেশেই থেকে যান নির্মল সেন। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নির্মল সেন বড় হয়েছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়িতে। কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ ও এমএ সম্পন্ন করেন নির্মল সেন। অর্থনীতির জ্ঞান তিনি কাজে লাগিয়েছেন সাংবাদিকতা, রাজনীতি আর সমাজচিন্তায়।

বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা দিয়ে। এরপর কাজ করেছেন দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলায়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৭২-৭৩ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ১৯৭৩-৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।

নির্মল সেন ছিলেন সাংবাদিকতার শিক্ষকও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১০ বছর অতিথি শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন। সমসাময়িক ইস্যু, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে তার লেখা ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ’, ‘মানুষ সমাজ রাষ্ট্র’, ‘বার্লিন থেকে মস্কো’, ‘মা জন্মভূমি’, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, ‘আমার জীবনে ৭১-এর যুদ্ধ’ ও ‘আমার জবানবন্দি’ গ্রন্থগুলো সাড়া জাগায়।

২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন।

কোটালীপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নির্মল সেনের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। আজ রোববার (৩ আগস্ট) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা প্রয়াত নির্মল সেনের বাড়িতে গিয়ে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

দুপরে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এ সময় নির্মল সেনের ভাতিজা সাংবাদিক রতন সেন কংকন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার, সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু, মেহেদী হাসানাত, গৌরাঙ্গ লাল দাস, মাহাবুব সুলতান, মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, রনি আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

be544258-ee17-48ba-a0a6-1786ec5417df

বক্তারা নির্মল সেনের নামে রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়কটির নামকরণ, নির্মল সেনের একটি ম্যুরাল স্থাপন, নির্মল সেনের জীবনকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরার জন্য নানা আয়োজন এবং নির্মল সেন স্কুল ও কলেজের উন্নয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি দাবি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মল সেনের ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। নির্মল সেনের জন্ম ও মৃত্যু দিবসসহ তার জীবনী, তার চেতনা, তার সৃজনশীলতা, তার জ্ঞান প্রজ্ঞা, তার ত্যাগ, তার বিপ্লবী চেতনাকে জাগ্রত রাখার জন্য যত ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয় আমাদের উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট থাকবে। এছাড়া, রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়কটি নির্মল সেনের নামে নামকরণ উদ্যোগ গ্রহণ এবং নির্মল সেন স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’

আলোচনা সভা শেষে নির্মল সেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।