সফরকারী পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১-এ হারানোর কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
প্রথম ম্যাচ পাকিস্তান জিতে নেয়ার পর দ্বিতীয়টি ‘টাই’ হলে সুপার ওভারে জয় পান নিগাররা। এবার তৃতীয় ম্যাচ দাপটে জিতল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের সিরিজে এই প্রথম পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৪ সালে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০তে জিতেছিল তারা।
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ঘূর্ণির সামনে বেসামাল পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৬৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। নাহিদা আক্তার ৩টি, রাবেয়া খান ২টি এবং ফাহিমা খাতুন, নিশিতা আক্তার নিশি ও স্বর্ণা আক্তার ১টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ফারজানা হক পিংকি ও মুর্শিদা খাতুনের ব্যাটে ভর করে ২৬ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
পিংকি ১১৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬২ ও মুর্শিদা ১০৬ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৪ রান করেন। এ দুজন উদ্বোধনী জুটিতে ১২৫ রান তুলে দেয়ার পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা (১৮*) ও সোবহানা মোস্তারি (১৯*) বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফারজানা পিংকি। আর ৭ উইকেট শিকার করে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় স্পিনার নাহিদা আক্তার।
এই সিরিজটা আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের (২০২২-২৫) অংশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে নিগারের দল। সব মিলিয়ে এই সিরিজ থেকে ৪ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে উঠেছে মেয়েরা।
বাংলাদেশের কাছে টানা দুই ওয়ানডে ম্যাচে হেরেও টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান। ১৫ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। মাত্র ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ভারত। এরপর যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড।
আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২-২৫) টেবিলের শীর্ষ পাঁচটি দল ও স্বাগতিক ভারত ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হবে। নিচের চারটি দল আইসিসি ওয়ানডে রÅাংকিংয়ের শীর্ষ দুটি দলকে নিয়ে খেলবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। সেখান থেকে আসবে আরো দুটি দল। মোট আট দল নিয়ে হবে ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি দল আটটি করে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে, যার চারটি নিজেদের মাঠে ও চারটি অ্যাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ১৬৬/৯ (সিদরা আমিন ৮৪*, শাদাফ শামাস ৩১; নাহিদা ৩/২৬, রাবেয়া ২/৩৫)। বাংলাদেশ: ৪৫.৪ ওভারে ১৬৭/৩ (পিংকি ৬২, মুর্শিদা ৫৪, সোবহানা ১৯*, নিগার ১৮*; নাশরা সান্ধু ২/২৭)। ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ফারজানা হক পিংকি (বাংলাদেশ)। সিরিজসেরা: নাহিদা আক্তার (বাংলাদেশ)।










