স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার নারীরা অনেক এগিয়েছে। সেই বিষয়টি তুলে ধরতে দিনাজপুরের হিলিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নারী উদ্যোক্তা বিজয় মেলা। যেখানে উদ্যোক্তরা হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন মেলায়। মেলায় দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় ও বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি উদ্যোক্তারা। তারা স্বপ্ন দেখছেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতি বছর এমন বিজয় মেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার ১৬ জন নারী উদ্যোক্তার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী নারী উদ্যোক্তা মেলা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ ও পৌরমেয়র জামিল হোসেন এ মেলার উদ্বোধন করেন। বিকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলে এ মেলা। দেশের সবচেয়ে নিকটতম সীমান্তবর্তী এলাকা হিলি। এখানে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। এতদিন শুধু পুরুষরা বিভিন্ন ব্যবসা করে এলেও এবার সেই তালিকায় নাম লেখান নারীরা। নিজ হাতে তৈরি পোশাক, খাবার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ১৬টি স্টল দিয়ে বসেন তারা।
নারী উদ্যোক্তা তৌহিদা ইয়াসমিন বলেন, হিলিতে প্রথমবারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে উদ্যোক্তা বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রামীণ নারীদের কাজে লাগিয়ে তাদের হাতে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেছি আমরা, যার গুণগত মান অনেক ভালো। সেসব পণ্য নিয়েই আমরা নারী উদ্যোক্তারা মেলায় হাজির হয়েছি। মেলায় ক্রেতা সমাগম অনেক ভালো। বেচাকেনাও বেশ ভালো হয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো দোকান থাকলে আমরা হয়তো অনলাইনে বা বাসা থেকেই এসব পণ্য বিক্রি করতাম। তাই পণ্যের প্রচার-প্রসারে প্রতি বছর এমন মেলার আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি।
সোহানা রহমান নামের অপর উদ্যোক্তা বলেন, আমি ৮ বছর ধরে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আসছিলাম। আমার মূল কাজ শুরু হয় পেপার ক্রাফটের কাজের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেসময় আমার সমস্যা ছিল ঘরে বসে পণ্য তৈরি করলেও এসব মাল ডেলিভারি করা। হিলিতে কোনো ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে ওঠেনি যা আমাদের এ রকম ব্যবসার জন্য খুব দরকার। হিলির নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা উচিত। নারীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে স্বাবলম্বী হওয়া দরকার।
মেলায় আসা ইমরুল ও নারগিস আকতার বলেন, এই প্রথম হিলিতে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে উদ্যোক্তা বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় অনেক ভালো ভালো হাতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে যা আমাদের খুব ভালো লাগছে। আমরা বন্ধু-বান্ধবরা মেলায় এসেছি, দেখছি, কেনাকাটা করছি—সব মিলিয়ে ভালো উপভোগ করছি। এ ধরনের মেলার ফলে নারী উদ্যোক্তারা লাভবান হবে। এটি যেন প্রতিবার হয়। সেই সঙ্গে মেলাটি যেন দুই-তিন দিন স্থায়ী হয় এই দাবি করছি আমরা। হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ বলেন, প্রথমবারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়ের আনন্দকে বাড়তি করে তুলতে এ আয়োজন। নারী উদ্যোক্তারা এতদিন শুধু তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের এগিয়ে নিতে সামনের দিনে আরো বড় পরিসরে এমন মেলা আয়োজনের পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।










