দক্ষিণ এশিয়ার উল্লেখযোগ্য শহরের কাতারে ঢাকাকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজউকের পরিকল্পনা কী?

বিশ্বের অন্যান্য শহরের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা অনেক পিছিয়ে। ইউরোপ-আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী যেসব দেশের মাথাপিছু আয় আমাদের সমান বা কম, তাদের তুলনাতেও আমরা পিছিয়ে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে।

আমি গত বছর জাপানে গিয়ে দেখেছি, তারা কীভাবে টোকিও শহরকে গড়ে তুলেছে। ১৯৫০ সালের টোকিওর চিত্র বর্তমান ঢাকার চেয়েও খারাপ ছিল। সেখান থেকে তারা আজকের টোকিও তৈরি করেছে। তারা ট্রান্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট পদ্ধতিতে কাজ করেছে, যেখানে জমি কেনাবেচার প্রয়োজন হয় না; মালিকরা ল্যান্ড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। প্রথমে আমার মনে হয়েছিল, এটি সম্ভব নয়। কিন্তু বিস্তারিত দেখার পর বুঝেছি, এটি খুবই সম্ভব।

চীনের বড় শহরগুলো কীভাবে গড়ে উঠেছে সেটাও দেখেছি। তারা ১০০ বা ২০০ একর জায়গাজুড়ে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক তৈরি করেছে।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে শুধু ভবন আর বাগানবাড়ি; গাড়ি চলাচলের জায়গাও চোখে পড়ে না। কিন্তু পুরো আন্ডারগ্রাউন্ড অংশ পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে সুইমিং পুল, জিম, শপিং মলসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। মূল কথা হলো জাপান, চীন কিংবা অন্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব বাস্তবতায় আধুনিক নগর গড়ে তুলেছে। আমাদেরও একটি আধুনিক নগর গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু বড় প্রজেক্ট বলতে যেটা বোঝায়, যেমন হাতিরঝিল বা পূর্বাচল প্রজেক্ট, রাজউক তো সেখানেই সফল হয়নি। তাহলে টোকিও, সাংহাই বানানোর ক্ষেত্রে সফলতা আসবে কীভাবে?

আমরা এসব প্রকল্প রাজউকের নিজস্ব জায়গায় করব। যেমন সিবিডি বা সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট করছি। প্রাথমিকভাবে উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিলে ব্লকভিত্তিক উন্নয়নের চিন্তা ছিল। তবে এখন আমরা আরো আধুনিক পদ্ধতিতে যেতে চাই। চীন, জাপান, দুবাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের বিনিয়োগ নেব। আধুনিক ঢাকা গড়তে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।

হাতিরঝিলের সমস্যাটি ভিন্ন। এর দূষণের উৎসগুলোর একটি কারওয়ান বাজার ও এফডিসি-সংলগ্ন এলাকা। সেখান দিয়ে বাজারের মুরগি, গরু, খাসিসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, ঝুড়ি, বস্তা ও অন্যান্য আবর্জনা হাতিরঝিলে যাচ্ছে। এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাজউকের নয়, রাজউকের দায়িত্ব মূলত লেক ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত।

এ অভিযোগ তো বরাবরই ছিল যে সিটি করপোরেশন বা মেট্রোপলিটন পুলিশ, তাদের সঙ্গে রাজউকের সমন্বয়ের অভাব সবসময় ছিল।

এখন এ ধরনের সমন্বয়হীনতা নেই। আমরা নিয়মিত সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। হাতিরঝিল নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ছিল। সেটি সমাধানে হাতিরঝিলের পাশ দিয়ে ডাইভারশন লাইন করে বর্জ্য ও পানি দাসেরকান্দিতে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রকল্প ওয়াসা নিয়েছে। বিষয়টি হাতিরঝিল প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিকল্পনায় ছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। আমি সবসময় বলি, রাজউক বা ওয়াসা আলাদা কিছু নয়। দেশ আমাদের, সরকারও একটাই। তাই সমস্যা যে সংস্থারই হোক, দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজউককেও নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে ঢাকায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, একের পর এক ফ্লাইওভারসহ নানা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। কিন্তু শহরের সংকট তেমন কমেনি। এখনো ব্যাপক নির্মাণকাজ চলছে। অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর নির্মাণকাজের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারও ঘটছে, যা বড় জনসংকট তৈরি করছে। এ নির্মাণযন্ত্রণা আর কতদিন সহ্য করতে হবে ঢাকাবাসীকে?

নির্মাণকাজ বন্ধ হবে না। ইউরোপ-আমেরিকাতেও নির্মাণকাজ চলমান। তবে অবশ্যই পরিকল্পিত ও সমন্বিত হতে হবে। বর্তমানে শহরের সব কাজ একক কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে নয়। কিছু কাজ সিটি করপোরেশন, কিছু সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কিছু ওয়াসা, পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কিছু রাজউক করছে। ফলে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়। এসব কাজ একটি কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা গেলে সেটিই সবচেয়ে ভালো হতো।

সমস্যা হলো আমরা এখনো এ ধরনের ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নই। অনেকেই মনে করেন, সমন্বিত কর্তৃপক্ষ হলে নিজের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কমে যাবে। আসলে এখানে ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয় নেই। রাজউকের কথাই বলি—বর্তমানে যেভাবে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, সেই তুলনায় জনবল ও অন্যান্য সক্ষমতা সত্যি বলতে যথেষ্ট নয়। তার পরও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

আমাদের টিম দিনরাত কাজ করছে। শুক্রবার-শনিবার বলে কিছু নেই। তবে যেকোনো নতুন উদ্যোগ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগে। বর্তমান সরকারও সবে দায়িত্ব নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন সময় দিয়ে বৈঠক করছেন। তিনি যেভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।

এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, রাজনৈতিক তোষণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আপনারা যে নতুন পরিকল্পনা করছেন, সেখানে কি সাধারণ মানুষের আবাসনের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে?

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এমপিদের জন্য প্লট ও গাড়ির সুবিধা বাতিল করেছে। রাজউককেও বলা হয়েছে, আবাসনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে কোনো প্রকল্পে রাস্তা বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে সেটি ভিন্ন বিষয়। আপনি বৈষম্যের কথা বলেছেন—আমাদের পরিকল্পনায় সে সুযোগ থাকবে না। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্যম আয়ের মানুষ এবং কিছু উচ্চ আয়ের মানুষের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

নগরবাসীর বড় ভোগান্তির একটি হলো সড়ক দখল। তেজগাঁওয়ের অনেক সড়ক এখনো ট্রাকের দখলে থাকে। ঢাকা শহরে এমনিতেই সড়কের পরিমাণ কম, তার ওপর অবৈধ দখলে চলাচল আরো কঠিন হচ্ছে। এ ধরনের সড়ক দখলমুক্ত করতে রাজউকের কী করণীয়?

করণীয় হলো রাজউকের মালিকানাধীন জায়গা দখলমুক্ত করা। তবে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সাধারণত অন্য সংস্থার। আমরা রাস্তা নির্মাণের পর তা সিটি করপোরেশন বা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করি। ৩০০ ফুট সড়কও এক সপ্তাহের মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজউকের প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ বা ম্যান্ডেট নেই। এসব দায়িত্ব সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা পালন করে।

বিশ্বের অনেক শহরের তুলনায় ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে মানসম্মত গণপরিবহন অপরিহার্য। এক্ষেত্রে ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকার দায় কি রাজউক এড়াতে পারে?

গণপরিবহন সরাসরি রাজউকের নিয়ন্ত্রণে নয়; এটি মূলত বিআরটিএ, বাস রুট রেশনালাইজেশন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের এখতিয়ারভুক্ত। তবে সমন্বিত নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজউক তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। বাস টার্মিনাল বা বাস স্টপেজের জন্য সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো সংস্থা জমি চাইলে আমরা তা বরাদ্দ দিই, কারণ ঢাকা শহরের বড় একটি অংশের জমির মালিক রাজউক। সম্প্রতি উত্তরায় খেলার মাঠের জন্যও রাজউক জমি হস্তান্তর করেছে। এতে সাময়িকভাবে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু জনস্বার্থ ও নাগরিক সুবিধার মূল্য টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। পার্ক ও খেলার মাঠ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য।

কিন্তু গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় রাজউকের অনেক পার্ক বেসরকারি ব্যক্তি বা ক্লাবের দখলে চলে গেছে। এগুলো কেন রাজউকের হাতছাড়া হলো?

পার্ক বেসরকারিভাবে দিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজউকের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সিটি করপোরেশন বা গুলশান সোসাইটির মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভেঙে পার্ক বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছি। নতুন করে যাদের পার্কের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, তাদের সঙ্গে শতভাগ শর্তসাপেক্ষ চুক্তি করা হচ্ছে, যাতে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রাজউকের হাতেই থাকে। বনানী-গুলশানে রাজউকের জায়গায় অবৈধভাবে তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করার ঘটনাও আমরা শনাক্ত করেছি এবং ব্যবস্থা নিয়েছি।

কিন্তু ঢাকাবাসী তো এখনো বাস্তবে পার্ক দখলমুক্ত হতে দেখেনি। আপনারা কতগুলো পার্ক উদ্ধার করতে পেরেছেন?

আমরা এরই মধ্যে অনেক পার্ক ও খেলার মাঠ উদ্ধার করেছি। উদ্ধারকৃত মাঠগুলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হচ্ছে, যাতে কেবল খেলাধুলার চর্চা হয়। শর্ত একটাই, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো যাবে না। দ্রুতই এ পরিবর্তনগুলো পরিলক্ষিত হবে।

নগর উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পথচারীবান্ধব চওড়া ও নিরাপদ ফুটপাত। ঢাকায় ভালো ফুটপাত নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে রাজউকের অবস্থান কী?

এটি সত্য যে পুরান ঢাকায় বা পুরনো পরিকল্পনায় চাহিদার তুলনায় ফুটপাত কম, আর যেগুলো আছে তার অনেকটাই হকার ও দোকানদারদের দখলে। তবে রাজউকের নতুন প্রকল্পগুলোতে আমরা এ ঘাটতি সংশোধনের চেষ্টা করেছি। উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে চওড়া ফুটপাত ও সাইকেল লেন রাখা হয়েছে। পুরনো শহরের ফুটপাতগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে।

একসময় ঢাকা ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। অথচ এখন বসবাসযোগ্যতার বৈশ্বিক সূচকে ঢাকার অবস্থান তলানিতে, বিদেশী পর্যটকের আগমনও কমেছে। ঢাকাকে আবার বৈশ্বিকভাবে আকর্ষণীয় ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য কি রাজউকের আছে?

অবশ্যই। রাজউক সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। পূর্বাচল নতুন শহর, হাতিরঝিল ও ৩০০ ফুট সড়ক আধুনিক নগরায়ণের উদাহরণ। হাতিরঝিলের পানির মান পুরোপুরি ঠিক করা গেলে এটি পর্যটকদের বড় আকর্ষণে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও আড়াইহাজারে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে কেন্দ্র করে নৌ-পর্যটন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উন্নত বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রে ২০ বছর পরিকল্পনা করে পাঁচ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, অথচ আমাদের দেশে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ২০ বছরেও শেষ হয় না। পূর্বাচল প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়ম ছিল। তবে বর্তমান সরকার উত্তর সিটি করপোরেশন, ডিএমপি, ওয়াসা ও রাজউককে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে এসব জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যিক প্লট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমির গ্রহীতাদের সঙ্গেও আলোচনা করে দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আবাসিক প্লটে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজউকের একশ্রেণীর কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে এসব অনিয়মে সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার পর এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক ভবন, বেসরকারি হাসপাতাল ও নামিদামি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সরে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন দুটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। আগে পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় অভিযান দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও রাজউকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ায় অভিযানের গতি বেড়েছে। পুলিশের সহযোগিতাও এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের জন্য আরো কত সময় প্রয়োজন?

দৃশ্যমান পরিবর্তনের জন্য আরো তিন বছর সময় প্রয়োজন। আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকার ইতিবাচক পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে, অনেকেই তা দেখতে পেয়েছেন।

নগরবাসীর উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরবাসীর কাছে অনুরোধ আইন মেনে চলুন। রাজউক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়ার পর যদি রাতের আঁধারে আবার কাজ শুরু হয়, তাহলে শুধু পুলিশ দিয়ে শহর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ভবন মালিকরা অনৈতিক সুবিধা চাইলে কিছু অসৎ কর্মকর্তা দুর্নীতির সুযোগ পান। আমরা আমাদের প্রশাসনিক অবস্থান থেকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।