সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিএনপি সবসময় কাজ করে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে একই আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল। নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বেগম রোকেয়া পদক চালু করা হয়, যা নারীর অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

ডা. জাহিদ হোসেন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এ সুবিধা আরো বাড়িয়ে স্নাতক পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব পরিবারভিত্তিক একটি পরিবার কার্ড চালুর পরিকল্পনা করেছে। এ ব্যবস্থায় পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে ধরা হবে। কার্ডটি পরিবারের মা, বোন বা নারী অভিভাবকের নামে দেয়া হবে। এতে পরিবারের সব সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। ধীরে ধীরে এটিকে উন্নত বিশ্বের মতো এক নাগরিক এক কার্ড ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও গর্ভবতী নারীদের সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। এসব সুবিধা পেতে স্থানীয় সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা বা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

নারী উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। অল্প বিনিয়োগে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। এর মাধ্যমে আরো অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার, গীতিকার ও সুরকার ইথুন বাবু এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খালেদ এনাম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী মাজহার আলী শিবা শানু।