বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, আমাদের এনার্জির যে লোকাল রিসোর্সেস আছে, এটা আসলে খুব বেশি না। আমাদের সামান্য কয়লা আছে, যেটা উত্তোলন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে আছি। গ্যাস যেটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্পদ, ২০১৬/১৭ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৬০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হয়েছে। এখন প্রতিদিন ১৭০০ মিলিয়ন সাপ্লাই হচ্ছে। আমাদের আরো গ্যাস আছে কিনা, এখনো নিশ্চিত না।

আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত 'বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর' শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমি যখন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম সরকারের কাছে। বলেছিলাম, দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার লাইন সিসমিক সার্ভে করতে। আমাদের অনসরে সিসমিক শেষ করে ফেলা উচিৎ, যাতে নিশ্চিত হতে পারি অনসরে আছে কি নেই।

ভারত মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত কিছুদিন আগে নিউজ দেখলাম মিয়ানমার তার দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি ১০০ টিসিএফ রিজার্ভ পেয়েছে, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ একই সময় পেয়েছে ২৯ টিসিএফ। কিন্তু আমাদের বঙ্গোপসাগরে আমরা গত ১৭ বছরে কিন্তু কোনো অনুসন্ধান করতে পারিনি। সেজন্য আমরা যদি অনসর সার্ভে শেষ করতে পারি এবং অফসোর যেহেতু এখনকার যে বিডিং রাউন্ড চলতেছে এটা যদি সফল হয়, বিড পাই এবং যদি কার্যাদেশ দিতে পারি তারপরও কমপক্ষে পাঁচ বছর লাগবে আমাদের জানতে যে অফসরে আছে কিনা।

তিনি জানান, বিদ্যুতে আমাদের চাহিদা ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। ইনস্টল ক্যাপাসিটি ২৮ হাজার মেগাওয়াট এবং তার সঙ্গে যদি ক্যাপটিভ জেনারেশনের ক্যাপাসিটি ধরি আরো ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ আমার ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ। অথচ এটা ১০ থেকে টু ২০% অথবা সর্বোচ্চ ৩০% থাকা উচিৎ। আমার এ বর্ধিত উৎপাদন ক্ষমতার জন্য কি হচ্ছে? আমাকে বর্ধিত খরচ করতে হচ্ছে।

বর্ধিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে যেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারছি না এবং এটা আরো বেশ কিছুদিন এটা চলতে থাকবে যদি এ চুক্তিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে না পারি অথবা সংশোধন করতে না পারি।