খাদ্য
নিয়ন্ত্রকের চাহিদা পূরণ না করায় রাজবাড়ী
সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ডিলার মনোয়ার হোসেন মনোকে চালের ডিও দেয়া হয়নি। ফলে ৫০০ কার্ডধারী ঈদের আগে চাল চাননি। সেই চাল ঈদের ১৫ দিন পার
হলেও গতকাল পর্যন্ত বিতরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ডিলার মনোয়ার হোসেন মনো গত ২৮ মার্চ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে গতকাল সকাল ১১টায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পাংশা উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক একেএম শাহনেওয়াজ তদন্তকাজ শুরু করেন।
ডিলার মনোয়ার হোসেন জানান, গত ২১ জানুয়ারি জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যাম প্রসাদ চাকমা ডিলারের অনুকূলে ওএমএসের পাঁচ টন চাল বিক্রির উপবরাদ্দ আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারিতে রাজবাড়ী সদর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামানের কাছে ডিও আনতে গেলে তিনি ২ হাজার টাকা ঘুস চান। টাকা না দিতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘুস ছাড়া ওএমএসের চাল বিক্রির সুযোগ দেয়া হবে না।’ পরে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ডিও আনতে গেলে দেখা যায়, ৪৬ ও ৭৭ নম্বর স্মারকের ওএমএসের চাল বিক্রির উপবরাদ্দ আদেশ তার নামে কোনো ডিও ইস্যু করা হয়নি।
তিনি আরো জানান, গত ৮ এপ্রিল সকাল ১০টায় তিনিসহ আরো তিনজন অফিসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ট্রেজারির চালান আনতে যান। অফিস সহকারীর কাছে ট্রেজারি চালান চাইলে তিনি জানান, ‘আপনাকে কোনো চালান দেয়া যাবে না। স্যারের (তারিকুজ্জামান) নির্দেশ আছে বিধায় আপনাকে ট্রেজারির চালান দিতে পারব না।’ কেন ডিও দেবেন না? প্রশ্ন করলে অফিস সহকারী বলেন, ‘স্যারের নিষেধ আছে।’ তখন ডিলার জানতে চান, তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে কিনা। উত্তরে অফিস সহকারী বলেন, ‘আপনার লাইসেন্স বাতিল হয় নাই।’ তাহলে ডিও বাবদ মুঠোফোনে কোনো এসএমএস দিয়েছেন কিনা? এর উত্তরে অফিস সহকারী বলেন, ‘স্যার নিষেধ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টিসিবির ডিও দেন নাই কেন?’ জানতে চাইলে ওই সহকারী বলেন, ‘স্যারের নিষেধ ছিল।’
ডিলার মনোয়ার হোসেন আরো জানান, গত ১৯ মার্চ উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাফায়েত হোসেন তার দোকানে যান। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেন, অফিসের নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং গুদাম কর্মকর্তা শাফায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আর তা না হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিলে যা যা করার দরকার তাই করবেন। ডিলার বলেন, ‘এখানে এটা স্পষ্ট, উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামানকে ঘুস না দেয়ায় তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আমার নামে উপবরাদ্দ আদেশ বাতিল করে ঘুস খেয়ে অন্যজনের নামে উপবরাদ্দ আদেশ দিয়েছেন।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পাংশা উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক একেএম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘ডিলারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।’










