রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১২ জন মারা গেছেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার (৪ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে করোনা ইউনিটে এরা মারা যান।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৪ ঘন্টায় যে ১২ জন মারা গেছেন এদের মধ্যে মাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে করোনা। এছাড়া ১০ জন করোনা উপসর্গে মারা গেছেন। আর করোনা নেগেটিভ হয়েও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন একজন।
এদের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন এবং নাটোর, নওগাঁ ও পাবনা জেলার একজন করে মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন এরা।
রামেক হাসপাতাল পরিচালক জানান, একদিনে রামেক হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৪ জন মারা গেছেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনজন করে মারা গেছেন ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এছাড়া হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যাকন্দ্র (আইসিইউ) এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে মারা যাওয়া একমাত্র রোগীর বাড়ি রাজশাহী জেলায়। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন,নওগাঁর একজন,নাটোরের একজন এবং পাবনার। মারা যাওয়া একমাত্র নেগেটিভ রোগীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ৪০৫ শয্যার রামেক হাসপাতালে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৮৫ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ২০ জন।
করোনা নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২১৩ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২০৬ জন। করোনা ধরা পড়েনি হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ জনের নমুনায়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৭ জন। এই একদিনে হাসাপাতল ছেড়েছেন ৬৪ জন।
শনিবার ( ৩ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ল্যাবে ১৮৮ জনের এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে ৩৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
এর মধ্যে রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৭ ও রামেক ল্যাবে ১২৯ জনের নুমানায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার অনুপাতে রাজশাহীর ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই ২২ জন ,২ জুলাই ১৭ জন এবং ৩ জুলাই ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন রামেক হাসপাতালে। গত ২৯ জুন করোনা ইউনিটে সর্বোচ্চ ২৫ জন মারা যান। করোনা সংক্রমণ শনাক্তের পর হাসপাতালে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এটি।










