বছর ঘুরে আবারো বঙ্গোপসাগরের তীরে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে বন বিভাগের কাছ থেকে পারমিট (অনুমতি) নিয়ে জেলেরা সাগরে যাত্রা করেছেন। প্রতি বছর এ শুঁটকি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন চরে অবস্থান নেন। পাঁচ মাস ধরে চলে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং চরগুলোতে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম। এ বছর বন বিভাগ প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। 

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরে জেলেদের জন্য ৯৮৫টি ঘর ও ৬৬টি ডিপোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শুঁটকি মৌসুম ঘিরে সুন্দরবনের দুবলার চরাঞ্চলে ১২-১৩ হাজার জেলে-ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের সমাগম ঘটবে। বনের যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেজন্য শুঁটকি আহরণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ঘর তৈরির ক্ষেত্রে নানা শর্ত দিয়েছে বন বিভাগ।

বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশালসহ সুন্দরবন উপকূলের হাজার হাজার জেলে এখানে অবস্থান নেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও রংপুর অঞ্চলের জেলে ও মৎস্যজীবীরাও আসেন দুবলার চরাঞ্চলে।

সুন্দরবন উপকূলের যেসব এলাকায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝির কিল্লা, শেলার চর, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, চাপড়া খালীর চর, কোকিলমণি ও হলদিখালীর চর।

শরণখোলার ইউনুস, শাহ আলম, কামরুলসহ একাধিক জেলে বলেন, বছরের পাঁচ মাস সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করি। সেটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুঁটকি বানিয়ে বিক্রি করে জীবন যাপন করি। তার পরও মাছ ধরতে গেলে বিভিন্ন সময় দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়। চরগুলোতে জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।

মৎস্যজীবীদের সংগঠন দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্ক নিয়েই উপকূলীয় অঞ্চলের মৌসুমি জেলেরা জাল-নৌকা ও মৎস্য আহরণের উপকরণ নিয়ে সাগর পাড়ের জেলেপল্লীতে ছুটে যান। জেলেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ আহরণ করেন। তিনি জেলেদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার পাশাপাশি সুপেয় পানি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানান।