করোনার কারণে গত দুই বছর মন্দার পর এবার কোরবানি ঈদে যশোরের রাজারহাটের চামড়া বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে অস্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা, পশুর দাম বেশি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি চামড়া ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না।

যশোরের রাজারহাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম। এ হাটকে ঘিরে ব্যবসা করেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী। ঈদ-পরবর্তী হাটেই অন্তত ১০ কোটি টাকার চামড়ার ব্যবসা হয়। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় ব্যবসায়ীরা এখানে চামড়া বেচাকেনা করেন।

সাধারণত কোরবানি-পরবর্তী হাটবারে রাজারহাটে লক্ষাধিক চামড়া বেচাকেনা হয়। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের প্রভাবে ২০২০ ও ২০২১ সালে ব্যবসায় মন্দা ছিল। এর বাইরে গত কয়েক বছরে চামড়ার বাজারের দরপতনও ছিল লক্ষণীয়। সঙ্গে রয়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ার চাপও।

রাজারহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের ৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী বকেয়া আদায় না হলে কোরবানির চামড়া কিনতে নগদ টাকা সংকটে পড়তে হবে। এছাড়া এবার পশুর দামও তুলনামূলক বেশি। বিপরীতে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতির কারণে পশু কোরবানির পরিমাণও কমতে পারে। সেক্ষেত্রে চামড়ার আমদানিও কমবে। তবে করোনার পর স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বিধায় চামড়া বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যানুযায়ী, ঢাকার একজন ট্যানারি মালিকের কাছেই রাজারহাটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর পাওনা বেশি। এর বাইরে রাজারহাটের মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অনেক ট্যানারি মালিক এবং আড়তদারের কাছে বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ‘কোরবানি ঈদ-পরবর্তী হাটে লক্ষাধিক চামড়া বেচাকেনার মধ্য দিয়ে অন্তত ২০ কোটি টাকা হাতবদল হয়। এ হাটের অনেক ব্যবসায়ীর মূলধন ট্যানারি মালিকদের কাছে আটকা রয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসান ও বকেয়া আদায় না হওয়ায় চামড়ার ব্যবসা নিয়ে অনেকে চিন্তিত। তার পরও চামড়া বেচাকেনার জন্য নগদ টাকা সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।’ 

রাজারহাট চামড়া বাজারের সাবেক ইজারাদার চামড়া ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ‘চামড়ার দাম এখন মোটামুটি ভালো। এর পরও যে দাম নির্ধারণ করা হবে সে অনুযায়ী বেচাকেনা হবে। ব্যবসায়ীরাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এরই মধ্যে লবণের দাম বেড়েছে। গত এক মাস আগেও যে লবণের বস্তা ছিল ১ হাজার ১০০ টাকা সেটি এখন ১ হাজার ৪০০ টাকা। এতে করে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে।’