সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলন ‘এআই গভর্ন্যান্স ইন প্র্যাকটিস: প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এআই এখন আর শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এটি এরই মধ্যে পরিবর্তন আনছে। তবে মূল প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে আমরা কত দ্রুত এআই গ্রহণ করব; বরং আমরা কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে, দায়িত্বশীলভাবে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে এটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এআই সুশাসনের জন্য তিনটি বিষয়কে মৌলিক বলে উল্লেখ করেন ফকির মাহবুব আনাম। সেগুলো হলো আস্থা ও বিশ্বাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তার মতে, সরকারি কাজে এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবকেন্দ্রিকতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, উপযুক্ত ডেটা গভর্ন্যান্স এবং সময়োপযোগী আইনি কাঠামো প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো একক দেশের কাছে এআই ব্যবহারের সব সমাধান নেই। অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, বিশ্বাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না। তিনি এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, ইউএনডিপি ও তুরস্ক সরকারের যৌথ আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইউএনডিপি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।