রাজশাহী অঞ্চলে প্রাণঘাতী করোনার কমিউনিটি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। মারাত্মক সংক্রামক ভারতীয় ধরনের কারণে দিন দিন আগ্রাসী হচ্ছে করোনা। রাজশাহী মেডিকেল (রামেক) কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যে রোগীরা আসছে, তাদের ৮০ শতাংশই গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা।
ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি ও কাশির সংক্রমণ। অসচেতন চলাফেরা ও উদাসীনতায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে গণহারে নমুনা পরীক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে জনসংখ্যা অনুপাতে রাজশাহীতে এখনো গ্রামাঞ্চলে নমুনা পরীক্ষা রয়ে গেছে আধা শতাংশের নিচেই।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালে আসা রোগীর ৮০ শতাংশই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। তাদের প্রায় সবাই নমুনা পরীক্ষা না করিয়ে জ্বর বা বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলেও সাধারণ অসুখ মনে করে অন্তত সপ্তাহখানেক থাকছে বিনা চিকিৎসায়। এরপর যখন অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়, তখন তারা আসে হাসপাতালে। এ অবস্থায় বেশির ভাগ মৃত্যু হচ্ছে পরীক্ষা ছাড়াই।
এদিকে জেলার সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্র জানায়, গত জুনে জেলায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৮ হাজার ২১৯ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৬৭ জনের। এর মধ্যে জেলার নয়টি উপজেলায় পরীক্ষার আওতায় এসেছে ৬ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ১ হাজার ৩৬৩ জনের। মোট পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর ও জেলার নয় উপজেলা মিলে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনের। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ৩৪২ জনের। করোনা শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এদিন নগরীতে ১ হাজার ২৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েছে ২৫৩ জনের।
জুনে উপজেলা পর্যায়ে করোনার র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়েছে ২৬ দিন। গত মাসে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতে করোনা পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চারদিন হয়নি। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন গড়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৩২টি। মোট নয় উপজেলার হিসাব গড় করলে প্রতিদিন একেকটি উপজেলায় পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ২৬ জনের।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুনে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৬৭০ জনের। সে হিসাবে জন্মনিবন্ধিত জনসংখ্যার বিপরীতে গ্রামে নমুনা পরীক্ষার হার মাত্র দশমিক ৩ শূন্য শতাংশ।
গ্রামাঞ্চলে পরীক্ষার অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার। তিনি দাবি করেন, গ্রামের মানুষ পরীক্ষায় আগ্রহী নয়। এজন্য এ চিত্র। তবে আগের তুলনায় পরীক্ষার হার কিছুটা হলেও বেড়েছে। জুনের আগে যেখানে উপজেলা পর্যায়ে দিনে ২০-৫০টা পরীক্ষা হতো, সেখানে জুনে তা বহু গুণ বেড়েছে। পরীক্ষার আওতা বাড়াতে ইউনিয়নভিত্তিক পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।
তবে সীমিত পরীক্ষায় করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাস। তিনি বলেন, যেখানে হাতেগোনা টেস্ট, সেখানে কীভাবে বলা সম্ভব হয় সংক্রমণের কী অবস্থা? আগে টেস্ট বাড়াতে হবে। তারপর দেখতে হবে ধারাবাহিকভাবে সংক্রমণের পরিস্থিতি কী দাঁড়াচ্ছে।










