সংসারে সচ্ছলতা ফেরায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার লাজিনা বেওয়া নামের এক বিধবা নারী সরকারি ভাতার কার্ড ফেরত দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে বিধবার ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন আবেদন সহকারে কার্ডটি ফেরত দিয়েছেন। বিধবা ওই নারী উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাতইর গ্রামের মৃত হাদিস আলীর স্ত্রী।

জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর লাজিনা বেওয়ার ১৯৯৮ সালে বিধবা ভাতার কার্ড পান। বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও চাতালে কাজ করে দুই মেয়ের বিয়ে দেন ও ছেলে মামুনকে লেখাপড়া করান। শিক্ষাজীবন শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের আবেদন করেন। পরে ২০১৪ সালে ধারদেনা করে বিদেশে চলে যান মামুন। এরপর ২০১৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় তার সংগ্রাম। নিজেদের কোনোমতে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই গড়েন। ধারদেনাও কিছু পরিশোধ করেন। এরপর শিক্ষকতার বেতনে তাদের সংসারে সচ্ছলতা আসায় বিধবা ভাতা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পারিবারিকভাবে।

লাজিনা বেওয়ার ছেলে মামুনুর রশিদ জানান, তার বয়স যখন ছয় মাস, তখন বাবা মারা যান। তখন তার মা বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। মা সে সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ‘যদি কখনো সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আসে, তাহলে বিধবা ভাতার কার্ডটি ফেরত দেবেন’। মার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন কার্ডটি ফেরত দিতে পারায় কিছুটা স্বস্তি পাবেন তার মা। সংসারে আয় রোজগার কিছুটা বেড়ে যাওয়াও এবং মায়ের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি কার্ডটি ফেরত দিয়েছেন। সংসারে যখন তাদের অভাব ছিল সেই কষ্টের দিনে সরকারের এমন সহযোগিতা পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দীন জানান, বিধবা ওই নারীর হিসাব বন্ধের জন্য তার ছেলে মামুন ভাতার কার্ডসহ লিখিত আবেদন দিয়েছেন। শিগগিরই হিসাবটি বন্ধ করা হবে। তবে এ নারীকে দেখে সবারই শিক্ষা নেয়া উচিত। প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু নেয়া ঠিক নয়।