আদিবাসীদের ভূমি, বন ও মানবাধিকার রক্ষায় বিদ্যমান সংকট চিহ্নিত করা এবং এক্ষেত্রে সরকার ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিরুপণ করা জরুরি। আজ রোববার (১০ আগস্ট) ‘আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভূমি, বন ও মানবাধিকার সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানিয়েছেন উপস্থিত বক্তারা।
এএলআরডি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও অন্যান্য ১৪টি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম, এএলআরডি-র গবেষণা কর্মকর্তা ইলিরা দেওয়ান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী।
এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলাম লেখক এবং প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, আদিবাসী নেতা ও কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, বেলার নির্বাহী প্রধান তাসলিমা ইসলাম, এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
প্রাথমিক বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, 'নাগরিকদের অপমান করা পাপ। যারা সংস্কৃতি, ধর্ম, নাগরিকদের নিয়ে কাজ করে তারা এটা নিয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ, আমাদের জন্মভূমি অনেক বৈচিত্রময়। পৃথিবীতে আদিবাসী জাতি আছে ৫ হাজার। আমাদের দেশে বাঙালি ছাড়া আর কোনো জাতি নেই— এ কথার কোনো মূল্য নেই। আমরা এখানে যারা বসবাস করি আমরা সবাই ভাই। আমরা এই বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্য খুঁজে পাই। এখানে নারীরা বঞ্চিত, আদিবাসী বঞ্চিত। এই বঞ্চিত মানুষের নিয়ে একটা কমিশন করা দরকার। অর্থাৎ আদিবাসী সংস্কার কমিশন প্রয়োজন। সেখানে যাতে আদিবাসী বিষয়ক নীতিমালা থাকে।
প্রথম প্রবন্ধে সমতল আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক উজ্জ্বল আজিম বলেন, এবারের আদিবাসী দিবসের মূল সুর— আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার স্বার্থক প্রয়োগ। বাংলাদেশের সমতলভূমিতে বসবাসকারী আদিবাসীরা এখনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নানাভাবে। ঐতিহ্যগতভাবে বসবাসরত ভূমি জোরপূর্বক দখল, দলিল জালিয়াতি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ঘর উচ্ছেদের ঘটনা অহরহ ঘটছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত। মাতৃভাষায় শিক্ষার অভাব ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় আদিবাসী জনগণ পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে আদিবাসীদের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি, ভাষা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয় প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের মানবাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নারীর অধিকার সুরক্ষা আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য হ্রাস, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভূমি অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষায় বিষয়গুলো প্রথমদিকে যতটা গুরুত্ব পেয়েছিল, এখন তা আর অেগ্যাধিকার তালিকায় নেই। অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সেসব সংস্কারের সুপারিশ কেবল কাগজে ফাইলবন্দি হয়ে আছে। তাই রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রকৃত অর্থে যেসব সংস্কারের প্রয়োজন ছিল সেসব সংস্কারের জায়গাগুলো এখনো অনুল্লেখিত রয়ে গেছে।










