বরিশালে পরকিয়া প্রেমিকের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। গ্রাম্য সালিশের এই ঘটনায় অপরাধীদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে ছেড়ে দেয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সেই গৃহবধূ (১৭)। বর্তমানে তিনি হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
গৃহবধূর ভগ্নিপতি আবুবকর জানায়, তিন মাস আগে ভাষানচর ইউনিয়নে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই তরুণীর। কাজের সূত্রে স্বামী ঢাকায় থাকেন। এ কারণে তিনি আন্ধারমানিক এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন। এসময়ই হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউশিয়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের বাবুর সঙ্গে তিনি পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রোববার রাতে মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় বাবুর বন্ধু রাজিবের ঘরে ওই গৃহবধূকে ডেকে নেয়। এরপর বাবু, রাজিব ও তাদের আরেক বন্ধু নাজমুল তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য পরান ভূঁইয়া সোমবার সকালে সালিশ বৈঠক বসিয়ে ধর্ষকদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে ওই গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে তাকে নিকটবর্তী হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকেত্সক ডা. শাহরাজ হায়াত বলেন, গৃহবধূকে দূপুরে নিয়ে আসার পর এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি। তার হাতে আঁচড়ের চিহ্ন আছে। তাকে প্রাথমিকভাবে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণের ব্যাপারে তিনি এখনও কিছু জানেন না। জ্ঞান ফিরলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ব্যাপারে হিজলা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা জানান, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তাদের কাছে এখনও অভিযোগ করা হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং তদন্ত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেবেন।










