বিশ্বের প্রধান শহরের বায়ুমান তালিকায় ফের শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, ঢাকা ২৪৬ স্কোর নিয়ে দূষিত বায়ুর বৈশ্বিক তালিকায় ১ নম্বরে অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২৪৬ একিউআই স্কোর বাতাসের ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ মানকে নির্দেশ করে। বিশেষ করে সকালে প্রাতঃভ্রমণকারী, শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা (স্কোর ১৮৭) এবং তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও ভারতের দিল্লি (স্কোর ১৮৬)। বিশ্ব তালিকায় এর পরবর্তী স্থানগুলোতে যথাক্রমে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (১৫৯), সিঙ্গাপুর (১৫৮), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৮), আফগানিস্তানের কাবুল (১৫৬), সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৫২) এবং উজবেকিস্তানের তাশখন্দ (১৩৭)।

সাধারণত ১০০ থেকে ২০০-এর মধ্যে একিউআই সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাতাসের মান নির্ণয়ের জন্য একিউআই একটি সূচক। সরকারি সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত ও এজন্য মানব স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বা তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে কিনা তা জানতে সূচকটি ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক একিউআই পাঁচটি দূষণকারী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ সমস্যায় জর্জরিত। ঢাকার বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণাধীন স্থাপনার ধুলা। সাধারণত জুনের মাঝামাঝিতে বর্ষাকাল শুরু হলে ঢাকার বাতাস সতেজ হতে শুরু করে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বায়ু নির্মল থাকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অক্ষমতার শীর্ষ ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি। দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় স্বীকৃত হয়েছে।