বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে কার্যালয় দখলে নিতে হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৯১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ শতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে দ্বন্দ্বের জেরে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট দুপুরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার  ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, বগুড়া পুলিশের (ডিএসবি শাখা) কনস্টেবল রমজান আলীকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ২০০ জনকে। মামলাটি করেন বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নান্নু মিয়া।

এদিকে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম থানায় একটি মামলা করেছেন। এ হামলায় তার চারমাথার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ ও দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মশিউল আলম দিপন বাদী হয়ে সদর থানায় পাল্টা মামলা করেছেন। এ মামলায় মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয় মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক দাবিদার ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের কর্মীরা জেলা শহরের চারমাথা এলাকায় মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয় দখল নিয়ে হামলা, ভাংচুর করে।

বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা মালিক শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কমিটির সিদ্ধান্তমতে বেলা দেড়টায় পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।