সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন কন্ট্রোলারদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার হয়েছে। রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন কন্ট্রোলারস’ অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের জরুরি বৈঠকে দ্রত সমস্যা সমাধানে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়টি রেলওয়েকে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

রেলের পূর্বাঞ্চলের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ও পাকশী বিভাগে ৩৭ জন টিএনএল, ডিটিএনএল ও সিটিএনএল ট্রেন অপারেশনে কাজ করে। অন্তত দেড়শ পদের বিপরীতে স্বল্পসংখ্যক কন্ট্রোলার থাকায় ডেপুটেশনে স্টেশন মাস্টারদের দিয়ে কাজ চালায় রেলওয়ে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে কন্ট্রোলাররা কর্মবিরতি শুরু করলে দুপুর আড়াইটায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জুম প্লাটফর্মে একটি বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে পাকশী, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) ও লালমনিরহাট কন্ট্রোলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোলারদের ১৯৬৮ সাল থেকে পেয়ে আসা বিশেষ ভাতা (বর্তমানে চারটি বাড়তি ইনক্রিমেন্ট) ‘পার্ট অ্যান্ড পার্সেল পে’ পুনঃসংযোজনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়। এর প্রেক্ষিতে অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে বিকাল থেকে কাজে ফিরে যায়। কন্ট্রোলারদের পক্ষে চিফ ট্রেন কন্ট্রোলার মো. আসিফ আহমেদ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেন।

ট্রেন কন্ট্রোলারদের দাবি, ‘কঠিন প্রকৃতির কষ্টসাধ্য দায়িত্ব’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন সরকার ট্রেন কন্ট্রোলারদের মূল বেতনের সঙ্গে ৩০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেয়া শুরু করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৩০ টাকার পরিবর্তে কন্ট্রোলারদের তিনটি অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সাল থেকে চারটি অগ্রিম ইনক্রিমেন্টকে ‘পার্ট অ্যান্ড পার্সেল পে’ হিসেবে গণ্য করে কন্ট্রোলারদের দিয়ে আসছে রেলওয়ে। ট্রেন কন্ট্রোলারদের এসব সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে ২৪ ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করা ট্রেন অপারেশনের কর্মীরা।

কন্ট্রোলাররা বলছেন, উৎসব, ঝড়, বৃষ্টি, যুদ্ধ, জরুরি অবস্থা, মহামারীসহ যেকোনো দুর্যোগকালে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে পেয়ে আসা সুবিধাগুলো কোনো কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ সুবিধা বাতিল করলেও রেলের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে দাবি তুলে ধরা হলেও রেলের পক্ষ থেকে মামলা করে পূর্বের সুবিধাগুলো ফেরত আনার পরামর্শ দেয়া হয়। বিদ্যমান সুবিধা কোনো কারণ ছাড়াই প্রত্যাহার করায় ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।