বাণিজ্যিক জাহাজ হরিজন-৯-এ মোংলাবন্দরে পৌঁছেছে মেট্রোরেলের অষ্টম চালান। এতে রয়েছে রেলের আট বগি ও চারটি ইঞ্জিন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মোংলাবন্দরের ৮নং জেটিতে নোঙর করে হরিজন-৯। ১ ফেব্রুয়ারি এসব পণ্য বোঝাই করে জাপানের কোবে বন্দর থেকে ছেড়ে আসে জাহাজটি। এদিন দুপুরের পর থেকে মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিনসহ অন্য মেশিনারিজ বন্দর জেটিতে খালাস করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজটির দুটি হ্যাচে থাকা এসব মাল খালাস করে বন্দর ছেড়ে যাবে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজটি।

মোংলাবন্দর ও স্থানীয় শিপিং কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, ১ ফেব্রুয়ারি জাপানের কোবে বন্দর থেকে ছেড়ে আসা এ জাহাজে এসেছে মেট্রোরেলের আটটি কোচ, চারটি ইঞ্জিন ছাড়াও আরো ৩৬টি প্যাকেজের ৪৮৮ টন মেশিনারিজ। গত বছরের ২০ জুলাই ১০টি কোচ, দুটি ইঞ্জিনসহ দ্বিতীয় চালান মোংলাবন্দরে খালাস হয়। এর আগে সাতটি জাহাজ বোঝাই করে ৬০টি ইঞ্জিনসহ বগি মোংলাবন্দরে আসে খালাসের জন্য। আগামী মাসে মেট্রোরেলের আরো একটি চালান আসার কথা। সব মিলে ২০২২ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ইঞ্জিনসহ আরো ৭২টি বগি আসবে। মোংলাবন্দর দিয়ে খালাস করে পণ্যগুলো নদীপথে নেয়া হবে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোয়। সেখান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংযুক্ত করা হবে ঢাকায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের সঙ্গে। মেট্রোরেল প্রকল্পের বগি ও ইঞ্জিনসহ অন্য মালামাল ও যন্ত্রাংশ আনতে মোংলাবন্দর ব্যবহার হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব পণ্যগুলো খালাস করে জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করবে বলে জানান পণ্য খালাসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন।

এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানি ও এমভি হরিজন-৯ জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্টের ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সোমবার পর্যন্ত মোট আটটি জাহাজে করে মেট্রোরেলের মোট ৭২টি বগি ও ইঞ্জিন মোংলাবন্দরে এসেছে। আগামী মাসে মেট্রোরেলের আরো একটি চালান আসার কথা। সব মিলে ২০২২ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের আরো ৭২টি বগি ও ইঞ্জিন আসবে। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মিত হচ্ছে।