উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা অহিংস কর্মসূচি পালন করছেন। অনশন ভাঙলেও প্রতিদিনই কোনো না কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন পুলিশি হামলার ঘটনার। তারই অংশ হিসেবে গতকাল রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হয় গীতি আলেখ্যর।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার মদদদাতা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার রাতে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা একটি গীতি আলেখ্যর আয়োজন করেন। তার আগের দিন শনিবার থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদকৃত টংগুলোর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঁচটি জায়গায় টং দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার থেকে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে টং দোকানগুলো নির্মাণ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি স্থানে শিক্ষা ভবন ‘ই’, ‘বি’ ও ‘ডি’-এর পাশে এবং চেতনা-৭১ ও ফুডকোর্টের পাশে টংগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
২০২০ সালের মার্চে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে টং দোকানগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে প্রায় ১৫টি টং দোকানের তিনটি ও ফুডকোর্ট চালু করা হয় এবং বাকিগুলোকে উঠিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া সে সময় নতুনভাবে আরো ফুডকোর্ট তৈরি করা হবে বলে প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেয়া হয়।
এদিকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাফেটেরিয়া, ফুডকোর্ট ও টং দোকান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে ‘চাষাভুষার টং’
নামে নতুন টং দোকান স্থাপন করেন।
১৩ জানুয়ারি প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে এলেও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এর অংশ হিসেবে রোববার রাতে গীতি আলেখ্যর আয়োজন করা হয়। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অহিংস প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।










