বিকাল ৫টায় রাজশাহী নগরীর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এর ১ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় থ্রি-হুইলার বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে এ ঘোষণা।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের জরুরি বৈঠক শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মেয়র লিটন। এর আগে বেলা ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠক শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে তাতে মেয়র লিটন ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল বাতেন, নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলার সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস প্রমুখ।

মেয়র লিটন বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে, এটি অস্বীকার করছি না। রামেক হাসপাতালে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও কুষ্টিয়া থেকে করোনা রোগী চিকিৎসায় আসছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট খুবই শক্তিশালী। যখন এটা আক্রমণ করছে, তখন ফুসফুস অকার্যকর করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জীবিকার জন্য দোকানপাট খোলা রাখতে হচ্ছে। কিন্তু মানুষের জীবনও তো বাঁচাতে হবে, এজন্যই কড়াকড়ি। ৫টা মানে ৫টা এবং ৬টা মানে ৬টা-ই। এবার আর কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

মেয়র আরো বলেন, র্যানডম স্যাম্পলিং করে কার করোনা আছে কার নেই—এটা পরীক্ষায় বিভিন্ন মোড়ে ‘অন দ্য স্পট’ র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হবে। আজ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে নমুনা পরীক্ষার হার বাড়বে। কারো করোনা পজিটিভ পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। ফলে তিনি আর বাইরে এ রোগটি বিস্তার করতে পারবেন না। নিজেও সতর্ক হবেন, অন্যরাও সতর্ক হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী জেলায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, জেলার গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুর থানা এলাকার ভেতর দিয়ে যেন মানুষ কোনোভাবেই রাজশাহী নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখবে পুলিশ। কঠোর লকডাউনে যেতে আরেকটু সময় চান মেয়র লিটন। তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচদিন ঘোষিত বিধিনিষেধ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ক’দিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার না কমলে পরের সভায় অন্তত ১৪ দিনের জন্য কঠোর থেকে কঠোরতম লকডাউন দেয়া হবে।