শিল্প খাতের তীব্র জ্বালানি সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকারি জমি দ্রুত লিজে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি দাবি তোলেন।
শিল্প কারখানার গ্যাসের বিকল্প ও বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো এ খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু কোথায় এ প্রকল্পগুলো করা হবে—এমন প্রশ্ন উঠলেই বলা হয়, ছাদে করবে। অথচ বর্তমান সময়ে ছাদে বাগান করাকে প্রমোট করা হচ্ছে, এমনকি বাংলাদেশ টেলিভিশনও (বিটিভি) ছাদবাগানের প্রসারে প্রচারণা চালাচ্ছে। ফলে সেই ছাদে যদি বাগানই করা হয়, তবে আর সোলার বসানোর জায়গা কোথায় থাকে? আর সোলার স্থাপন করা হলেও তা শিল্পকারখানার বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদার কতটুকুই বা মেটাতে সক্ষম?
শিল্প খাতের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত ও কার্যকর প্রসারের জন্য সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সোলারের জন্য ছাদের ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই। সারা দেশে সরকারের যে বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, সেগুলো দ্রুত লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করুন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আগ্রহী উদ্যোক্তারা দেশী কিংবা বিদেশী যারাই হোক না কেন—আগামী ৬ মাসের মধ্যে তাদের জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করে দিন। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে আমাদের বিদ্যমান শিল্প কারখানাগুলো যেমন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে, তেমনি নতুন কোনো দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও আসছে না। জমি বরাদ্দের পথ সহজ করা গেলে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে।
জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা ছাড়া দেশী কিংবা বিদেশী— কোনো পক্ষই বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মূলত দেখেন দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা কেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কতটা সফল হচ্ছেন— তার ভিত্তিতেই প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) দেশে আসে। আপনি যদি জ্বালানি দিতে না পারেন, তাহলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ৫-৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা ছিল, তা এখন কমে ৬০০ মিলিয়ন হয়েছে কি না, সে সম্বন্ধে আমাদের কোনো সঠিক ধারণা নেই। আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করি, এমনকি নেপাল থেকেও নাকি ৪০ মেগাওয়াট আমদানি করি। নোবডি ইজ গোয়িং টু ইনভেস্ট ইন দিস কান্ট্রি।
মাহবুবুর রহমান বলেন, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণে খেলাপি হয়ে পড়ছে, যার ফলে ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ী ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ বাড়ছে।










