চলতি বিশ্বকাপে হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেই কার্যত এবারের আসর থেকে বাংলাদেশের বিদায় ঘটে যায়। গতকাল কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের কাছে সাত উইকেটের বড় পরাজয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিশ্চিত হলো সাকিব আল হাসানের দলের। আর পাকিস্তান এ জয়ে সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশাটা বাঁচিয়ে রাখল। 

টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ ৪৫.১ ওভারে মাত্র ২০৪ রান তুলে গুটিয়ে যায়। ছোট্ট টার্গেট তাড়া করতে নেমে ফখর জামান (৭৪ বলে ৮১) ও আব্দুল্লাহ শফিকের (৬৯ বলে ৬৮) ব্যাটে ভর করে ১০৫ বল হাতে রেখে জয় পায় পাকিস্তান। শফিক-ফখরের ওপেনিং জুটি ১২৮ রান তুলে দিলে জয় নিয়ে আর ভাবতে হয়নি পাকিস্তানকে।

স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ তিন উইকেট নিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতিখার আহমেদের ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে দেয়। ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৮১ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন বামহাতি ব্যাটার ফখর জামান।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে সাকিবদের বিপর্যয়ে শুরু, শেষও বিপর্যয়ে। শাহিন শাহ আফ্রিদির আঘাতে প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিম ও তৃতীয় ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন সাজঘরে। চারে নামা মুশফিকুর রহিম ব্যক্তিগত ৫ রানে হারিস রউফের শিকার হন। এরপর লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহর দারুণ এক জুটিতে স্থিতি আসে। যদিও ৬৪ বলে ৪৫ রান করে ইফতিখার আহমেদের বলে আউট হয়ে যান লিটন। ৮৯ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন লিটন ও মাহমুদউল্লাহ।

এরপর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৫৯ বলে ২৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহও। ৭০ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৬ রান করে শাহিনের বলে বোল্ড হন তিনি। মাত্র ৩ বল স্থায়ী হয় তাওহিদ হৃদয়ের প্রত্যাবর্তন। উসামা মিরকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে ফার্স্ট স্লিপে ইফতিখারকে ক্যাচ দেন তিনি (১৪০/৬)।

মিরাজকে নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। যদিও জুটিটি বড় হয়নি। ৪৮ বলে ৪৫ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। হারিস রউফের বলে ‘অহেতুক’ এক শট খেলে মিডউইকেটে আগা সালমানকে ক্যাচ দেন অধিনায়ক। ৬৪ বলে চার বাউন্ডারিতে ৪৩ রান করেন তিনি। মিরাজের ব্যাটে (৩০ বলে ২৫) ভর করে ২০০ পার করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম তিনটি করে ও হারিস রউফ দুটি উইকেট নেন। স্পিনার উসামা মির ও ইফতিখারের শিকার একটি করে উইকেট। পরে বোলারদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আধিপত্য করে জয় তুলে নেন পাকিস্তানের ব্যাটাররা। 

এই জয়ের পর ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানকে টপকে টেবিলের পাঁচে উঠল পাকিস্তান। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ৯ নম্বরে। তাদের নিচে শুধু বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।   

চলতি আসরে নিজেদের ষষ্ঠ হার শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক সাকিব আল হাসান বিমর্ষ চিত্তে বললেন, ‘উইকেট ভালো ছিল, যদিও আমরা যথেষ্ট রান পাইনি। আগেভাগে উইকেট হারিয়েছি। বড় পার্টনারশিপও হয়নি। আমরা আসলে অনেক কিছু পরিবর্তন এনেছি, যদিও সেগুলো কাজ করছে না। আমার নিজেরও আত্মবিশ্বাস তলানিতে ছিল। এ মুহূর্তে আমাদের একত্রে পারফর্ম করতে হবে, যা আসলে হচ্ছে না। আমরা অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেও তা পাচ্ছি না।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৫.১ ওভারে ২০৪ (মাহমুদউল্লাহ ৫৬, লিটন ৪৫, সাকিব ৪৩, মিরাজ ২৫; শাহিন ৩/২৩, ওয়াসিম ৩/৩১, রউফ ২/৩৬)। পাকিস্তান: ৩২.৩ ওভারে ২০৫/৩ (ফখর ৮১, শফিক ৬৮, রিজওয়ান ২৬*, ইফতিখার ১৭*; মিরাজ ৩/৬০)। ফল: পাকিস্তান সাত উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফখর জামান (পাকিস্তান)।