ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কটি এমনিতেই সরু। পাগলা শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী ট্রাকসহ প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার ভারী যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। অথচ ব্যস্ততম সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তের কারণে সড়কে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। ভাঙা সড়কে যানবাহনের ধীরগতির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে এলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সড়ক ব্যবহারকারীদের।
তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার সবুজ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কের কাজটি তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে। সড়কটিতে যান চলাচলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ইটের সলিং করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সড়কটি মাটি ফেলে উঁচু করা হবে, যাতে সড়কে পানি জমে না থাকে। তৃতীয় ধাপে আগামী বছর সড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হবে। পুরো সড়কটি হবে সিসি ঢালাই সড়ক।’
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়া রেললাইন থেকে পোস্তগোলা ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টের পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে এসব গর্তে পানি জমে আরো বড় আকার ধারণ করেছে। এসব গর্তে প্রায় সময় চাকা আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে ট্রাক, বাস। গর্তে পড়ে উল্টে যাচ্ছে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন। দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন অনেকেই। গতকাল দুপুরে পঞ্চবটী মোড়ের একটু আগে ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে গর্তে পড়ে যাত্রীবাহী ইজিবাইক উল্টে যায়। এ সময় ইজিবাইকে থাকা তিন যাত্রী আহত হন।
আব্বাস মিয়া নামে এক ট্রাকচালক জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ, গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের গর্তে পড়ে ট্রাকের যন্ত্রপাতি ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। সড়কের ওপর গাড়ি বিকল হয়ে পড়লেই সরু রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রহুল আমিন সাগর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভাঙা সড়কের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলে। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তুলতে ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রায় এক মাস আগে চিঠিও দেয়া হয়েছে।’










