রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার দশম বছরে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ হামলায় নিহতদের স্মরণ করে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার আদর্শ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিদেশী কূটনীতিকরা।

আজ বুধবার বিকালে নিজ বাসভবনে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশে এ ধরনের শক্তির কোনো স্থান নেই এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেয়া হবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সরকারের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় ভারত, জাপান, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন এবং গত এক দশকে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরেন। এ সময় শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা যেনো এ ঘটনা ভুলে না যাই... এমন ঘটনা যেনো আর কখনো না ঘটে।

বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া, নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

হলি আর্টিজান হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল আমাদের প্রাণবন্ত, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ত্রাসীরা ঢাকার গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকটের সময় ২০ জন জিম্মি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয় হামলাকারীও নিহত হয়। ওই হামলায় ইতালির নয়জন নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন।