ব্যাটিংয়ের কাণ্ডারি কেন উইলিয়ামসন নেই। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার টিম সাউদিও নেই। গতি তারকা লোকি ফার্গুসন ম্যাচের আগের দিন চোটে পড়েন। স্পিনিং অলরাউন্ডার ডুগ ব্রেসওয়েলও নেই। মূল একাদশের চার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড। খর্বশক্তির এ কিউইদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা উড়িয়ে দেবে বলে যারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। জস বাটলারের পরাক্রমশালী স্কোয়াডকে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করল নিউজিল্যান্ড। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে নাটকীয়ভাবে হারের প্রতিশোধও নেয়া হলো কিউইদের।
রূপকথার মতোই যাত্রা হলো কিউইদের। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গতকাল ২৮৩ রানের টার্গেটটা মামুলি বানিয়ে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। তাও ৮২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যটা ছুঁয়ে ফেলে গত দুই বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। ২০১৯ সালের লর্ডস ফাইনালের পুনরাবৃত্তির ম্যাচটি তাই বড্ড একপেশেই হলো।
জোড়া সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য এ জয় এনে দেন ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্র। দলীয় ১০ রানে উইল ইয়াং সাজঘরে ফেরেন স্যাম কারানের শিকার হয়ে। এরপর কনওয়ে ও রাচিন ২১১ বলে ২৭৩ রানের হার না মানা জুটিতে ইংলিশদের গুঁড়িয়ে দেন। এটা বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থ সেরা পার্টনারশিপ ও নিউজিল্যান্ডের সেরা। কনওয়ে ক্যারিয়ারসেরা ১৫২ রানের ইনিংস খেলেন ১২১ বলের মোকাবেলায়। তিনি ১৯টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। আর রাচিন ৯৬ বলে ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১২৩ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলেন। বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ কিউই ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন ২৩ বছর বয়সী রাচিন।
এর আগে টস জিতে বোলিং নেয়া নিউজিল্যান্ড প্রতিপক্ষকে ২৮২ রানে আটকে দেয়। ম্যাট হেনরি ও মিচেল স্যান্টনাররা শক্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন। ১১৮ রানের মধ্যে ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, হ্যারি ব্রুক ও মঈন আলী ফেরেন সাজঘরে। এরপর সাবেক অধিনায়ক জো রুটের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত লড়াকু স্কোর পেয়েছে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক জস বাটলারের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৭২ বলে ৭০ রান করেন তিনি। বিপর্যয় কাটিয়ে একটি পর্যায়ে তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহের সম্ভাবনাও তৈরি করে ইংলিশরা। যদিও বাটলারের বিদায়ে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। পরে টেল-এন্ডের দৃঢ়তায় ২৮২ রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
২৫২ রানে ৯ উইকেট হারায় ইংলিশরা। সেখান থেকে দশম উইকেটে ২৬ বলে ৩০ রান যোগ করেন আদিল রশিদ ও মার্ক উড। তাতে দল পায় সম্মানজনক সংগ্রহ। রুট ৮৬ বলে ৭৭ ও বাটলার ৪২ বলে ৪৩ রান করেন।
ইংল্যান্ড ইনিংসে কিছু ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো। জনি বেয়ারস্টো, হ্যারি ব্রুক আর মঈন আলীর মতো তিন বিস্ফোরক ব্যাটারের আউট ছিল খুবই সফট ডিসমিসাল। যদিও ইনিংসে শুরু ও শেষের দিকে দুর্দান্ত বেলিং করেন ম্যাট হেনরি। মিচেল স্যান্টনার বামহাতি স্পিনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি। আর গ্লেন ফিলিপস তিন ওভার বোলিং করে বোল্ড করেন মঈন আলী ও পরে জো রুটকে।
অভাবনীয় এ জয় শেষে নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথামের অনুভূতি ঝরল এভাবে, ‘অবশ্যই রাচিন ও ডেভনের পার্টনারশিপটা অবিশ্বাস্য। তাদের ২৮০ রানে আটকে দেয়াটা বিরাট কৃতিত্বের। এরপর ডেভন ও রাচিন যেভাবে জবাব দিল তা ছিল উপভোগ্য। রাচিন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছে, যা নিয়ে আমরা গর্বিত।’
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের স্কোয়াডটি এ মুহূর্তে বিশ্বে সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে ধরা হয়। এ দলটিকে যেভাবে মাটিতে নামাল কিউইরা, তা অভাবনীয়। এমন পরাজয় শেষে ইংলিশ দলনায়ক জস বাটলার বলেন, ‘হতাশাজনক দিন। আমরা নিউজিল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী এবং এমন পরাজয় মেনে নেয়া কঠিন। তবে বড় এক টুর্নামেন্টে এটা কেবলই একটি পরাজয়। আমাদের ভেঙে পড়া চলবে না। আমি মনে করি নিউজিল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। ডেভন ও রাচিন অনবদ্য এক জুটি গড়েছে, তাদের কাছেই আমরা হেরেছি।’
ইংল্যান্ডের পরের ম্যাচ ১০ অক্টোবর। ধর্মশালায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে আগামীকাল বাংলাদেশ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। কিউইরা ৯ অক্টোবর হায়দরাবাদে খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৮২/৯ (রুট ৭৭, বাটলার ৪৩, ব্রুক ২৫; হেনরি ৩/৪৮, ফিলিপস ২/১৭, স্যান্টনার ২/৩৭)। নিউজিল্যান্ড: ৩৬.২ ওভারে ২৮৩/১ (কনওয়ে ১৫২*, রাচিন ১২৩*; কারান ১/৪৭)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: রাচিন রবীন্দ্র (নিউজিল্যান্ড)।










