বগুড়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ফতেহ আলী বাজার শহরের আলতাফুন্নেচ্ছা খেলার মাঠে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেছেন কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ীরা। বুধবারের পর গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ফতেহ আলী বাজার বন্ধ ছিল। সকাল থেকে মাছ, মাংস ও সবজি ব্যবসায়ীরা ফতেহ আলী বাজার ও আলতাফুন্নেচ্ছা খেলার মাঠে দোকান বসাননি।

জানা গেছে, ১৯ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসন শহরের মাছ, মাংস ও সবজির প্রধান বাজার ফতেহ আলী বাজার, রাজাবাজারের খুচরা বাজার এবং রেললাইনের খুচরা বাজার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ওইদিন থেকেই ফতেহ আলী বাজারসহ বাকি বাজারগুলো বন্ধ ঘোষণা করে শহরের আলতাফুন্নেচ্ছা খেলার মাঠে বাজার চালু করা হয়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ফতেহ আলী বাজারে মুদি দোকান খোলা রেখে মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার স্থানান্তর করায় তাদের দুই বাজারেই যেতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খোলা মাঠে বাজার বসানোর কারণে ক্রেতা কমে গেছে। এছাড়া শীতের মধ্যে খোলা মাঠে ব্যবসা করতে গিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস ও কুয়াশায় ব্যবসায়ীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ফতেহ আলী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সেলিম জানান, আলতাফুন্নেচ্ছা মাঠে বাজার বসানোর পর থেকেই তাদের ব্যবসায় মন্দা চলছে। মাছ ব্যবসায়ীদের সার্বক্ষণিক পানি ব্যবহার করতে হয়। শীতের মধ্যে ফতেহ আলী বাজারে শেডের নিচে লাইটিং করে তারা ব্যবসা করেন। কিন্তু আলতাফুন্নেচ্ছা খেলার মাঠে খোলা আকাশের নিচে একদিকে ঠাণ্ডা বাতাস, অন্য দিকে কুয়াশার মধ্যে পানি ব্যবহার করে কয়েক দিনে বেশকিছু ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তারা আলতাফুন্নেচ্ছা মাঠে ব্যবসায় করতে আগ্রহী নয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, একদিকে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শীতের মধ্যে খোলা মাঠে ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ কারণে তারা ধর্মঘট ডেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বগুড়ার ব্যবসায়ী নেতা পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, ব্যবসায়ীরা খোলা মাঠে ব্যবসা করতে চাইছেন না। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।