যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে এক ইজিবাইক (ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা) চালকের হামলায় অপর এক ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার এ ঘটনায় আহত ইজিবাইক চালক মো. জাকির গাজীকে (৩২) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত জাকির গাজী মহানগরীর বিমানবন্দর থানাধীন রামপট্টি এলাকার বাসিন্দা সোমেদ গাজীর ছেলে। মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এসএম জাহিদ-বিন-আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জাকিরের ভাতিজা আল আমিন জানান, তার চাচা একজন ইজিবাইক চালক। প্রতিদিনের মতো সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জাকির হোসেন। পরে নথুল্লাবাদে যাত্রী তোলা নিয়ে অপর এক ইজিবাইক চালকের সাথে ঝগড়া হয়। এসময় জাকির হোসেনকে মারধর করে অপর চালক। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে আমার বাবা নথুল্লাবাদ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এসএম জাহিদ-বিন-আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এটি হত্যা কিনা সেভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুনেছি মৃত্যুর পূর্বে যাত্রী তোলা নিয়ে দুই অটো চালকের মধ্যে দুই দফায় বিরোধ হয়। প্রথমে সকাল ১০টার দিকে বাবুগঞ্জের রামপট্টিতে জাকির গাজীর সাথে অপর ইজিবাইক চালকের সাথে ঝগড়া হয়। পরে তা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় নথুল্লাবাদে আবার তাদের মধ্যে নাকি হাতাহাতি বা মারামারি হয়েছে।
এই ঘটনার পরে নিহতের ভাই এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিলক নামক স্থানে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইজিবাইক চালক জাকির হোসেন। এরপর তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ওসি বলেন, মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তর নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










