এ দুটি দল আজ থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ। সিরিজ খেলতে নামার আগে দুই দলেরই ভাবনায় আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

বাংলাদেশের মাঠে ফেভারিট হিসেবে নামছে পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেকর্ড বেশ দুর্বল। এখন পর্যন্ত ৩৯টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৫টি জিতেছে টাইগাররা, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪টি। এটা দুই দলের সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। পাকিস্তান টানা পাঁচটি সিরিজ জিতে নেয়ার পর ২০১৫ সালে হোম সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০-তে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মাটিতে ১৭টি ওয়ানডের মধ্যে ১৪টি জিতেছে পাকিস্তান, তিনটি জিতেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের মাঠে চার সিরিজের তিনটি পাকিস্তান ও একটি বাংলাদেশ জিতেছে। পাকিস্তানের মাটিতে দুটি পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলে দুটিতেই হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাঠে ১২ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ হেরেছে ০-১২ ব্যবধানে!

২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে, তবেই মিলবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট। ব্যর্থ হলে খেলতে হবে বাছাইপর্ব, যেখান থেকে মূল পর্বের টিকিট পাবে চারটি দেশ। তাই এখন থেকে প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ।

অধিনায়ক হিসেবে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের সামনে মিরাজ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, অধিনায়কত্ব যাকেই দেয়া হোক না কেন, তাকে সময় দিলে সুন্দরভাবে দলকে তৈরি করা যায়। এগুলো তো নিশ্চয়ই ক্রিকেট বোর্ড দেখবে, সিদ্ধান্ত নেবে (ভবিষ্যৎ)। আমার যে ভূমিকা—আমাকে যত দিনের জন্য এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমি চেষ্টা করব দলটাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে।’

অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ১৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজ এখন তাকিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলায়। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এ সিরিজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার জন্য নয়, দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। কারণ, বাংলাদেশ সামনে বিশ্বকাপ খেলবে। যে-ই অধিনায়ক থাকুক না কেন, আমার কাছে মনে হয় যে প্রথম প্রাধান্য বাংলাদেশ এবং সামনে বিশ্বকাপে জায়গা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত বছর ২০ ওভারের ফরম্যাটেই বেশি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে খেলেছে মাঝেমধ্যে। শ্রীলংকার বিপক্ষে তাদের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আফগানিস্তানের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। এবার হোম সিরিজে নতুন শুরু চান মিরাজ।

তিনি বলেন, ‘আপনি একটা জিনিস দেখেন, একটা দল তৈরি করতে গেলে অবশ্যই প্রতিটা খেলোয়াড়ের পারফর্ম করতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে সবার পাশে দাঁড়াতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের দলে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়। চেষ্টা করব তাদের পাশে দাঁড়াতে এবং তারা যদি পারফর্ম করে, দলের জন্য অনেক ভালো হবে।’

পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশ সিরিজে কেউ বাদ পড়েনি, আমরা তরুণদের সুযোগ করে দিতে চাই, কেননা সামনেই বিশ্বকাপ। এর আগে যেন তারা তৈরি হতে পারে। ক্রমেই তারা তাদের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারবে। আমরা বিশ্বকাপের জন্য দলটাকে তৈরি করতে চাই এবং এ কারণেই তরুণদের দলে সুযোগ দেয়া হবে।’