নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১০টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে কেক কাটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ সময় ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। এ বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়। সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। এ বছর চারটি বড় বাস কেনা হবে, টং আধুনিক করা হবে, খাবারের মান বাড়ানো হবে। এছাড়া হল ও ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। করোনার সময় মোবাইল ডাটা দিয়েছি। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ভিসি আরো বলেন, একজনও যদি ন্যায্য কথা বলে তাহলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এটা সমাধানের ব্যবস্থা করব। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমরা ন্যায় ও সত্যের পথে থাকব। আপনারা দেখেছেন সত্য ও ন্যায় বিজয়ী হয়েছে এবং টিকে আছে। মিথ্যা আজ পরাভূত হয়েছে। দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে এমন একটি আলোকোজ্জ্বল দিন এসেছে, এতে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভুল করতে পারে কিন্তু শিক্ষকরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, শিক্ষকরা অভিভাবকের জায়গা থেকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। এ বছরের মধ্যে ৫০০ শিক্ষার্থীর হলে আবাসিকভাবে থাকার ব্যবস্থা হবে। এছাড়া দু-তিন বছরের মধ্যে শতভাগ ছাত্রী হলে থাকতে পারবে। কয়েক বছরের মধ্যে শতভাগ ডিজিটাল ক্যাম্পাস করা হবে।

এদিকে রোববার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গতকাল খোলা হয় এবং আজ থেকে অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায় এবং ভিসি বাসভবনে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যান। এরপর গত শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে শনিবার তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।