যশোর জেলার ৮৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করার পর সিভিল সার্জনের টিম পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম দেখার পর ওই প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, যশোর জেলায় ২৮৭টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য গত বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৩৪টি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করে। বাকি ৫৩ প্রতিষ্ঠান মালিক সরকারি আদেশ প্রথম অবস্থায় মানেননি। ফলে প্রতিষ্ঠান মালিকদের কারণ দর্শনোর নোটিস পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মালিকের নোটিসের জবাব ছিল অসন্তোষজনক। পরবর্তী সময় সূর্যের হাসি ক্লিনিক ছাড়া সব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে আবেদন পাঠায়।

এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠায় জেলা সিভিল সার্জন। প্রতিবেদনে বলা হয় জেলার ৮৯টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য। ওইসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা ও প্যাথলজিস্ট নেই। এছাড়া নিম্নমানের অস্ত্রোপচার কক্ষ, প্যাথলজি বিভাগ নোংরা পরিবেশ ছাড়াও মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয়।

৮৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোর শহর ও সদর উপজেলার যশোর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আফজালিয়া এস্টেট এসবিএফ কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, দেশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মিডপয়েন্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এএফসি হেলথ ফরটিস আউটরীচ ক্লিনিক উল্লেখযোগ্য। সিভিল সার্জনের যাচাই-বাছাইয়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, জেলায় এ পর্যন্ত নানা অনিয়মের কারণে ৩০টির বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তিনি সিলগালা করেছেন। এছাড়া পরিদর্শনের সময় নানা অনিয়মের চিত্র চোখে পড়ায় ৮৯টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মতামত পাঠানো হয়। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবারো আবেদন করেছে। অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা এলেই সেসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হচ্ছে। অনিয়ম থাকলে লাইসেন্স না দেয়ার জন্য আবারো সুপারিশ করা হবে।