রমজান মাসকে ঘিরে দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ এক বছর পর আবারো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছোলা ও মশুর ডাল আমদানি শুরু হয়েছে। এই পণ্য দুটির আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে গত সোমবার দুটি ট্রাকে ৬০ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। রাজশাহীর মেসার্স বিসমিল্লাহ ডাল মিল নামের এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই ছোলা আমদানি করে। প্রতি টন ছোলা ৭৮৫ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়, যা কাস্টমসে ১ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলারে শুল্কায়ন করা হয়েছে। এছাড়া একই প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার তিনটি ট্রাকে ১০৮ টন এবং গতকাল তিনটি ট্রাকে আরো ১০২ টন মশুর ডাল আমদানি করেছে।
পাশাপাশি আরো দুজন আমদানিকারক মশুর ডাল আমদানি করছেন এই স্থলবন্দর দিয়ে। প্রতি টন মশুর ডাল ৯৫০মার্কিন ডলার মূল্যে আর শুল্কায়ন করা হচ্ছে ১ হাজার ৭০ মার্কিন ডলার মূল্যে। এসব ছোলা ও মশুর ডাল শুল্কমুক্ত পণ্য হিসেবে আমদানি করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পণ্য সরবরাহ করা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট রাশেদ ফেরদৌস বলেন, সামনে যেহেতু রমজান তাই দেশের বাজারে ছোলার বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। দীর্ঘ এক বছর পর আবারো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি হচ্ছে। বন্দর থেকে এসব ছোলা ছাড়ানোর কাজ করছে আমার সিআ্যন্ডএফ প্রতিষ্ঠান।
তিনি আরো বলেন, দেশের বাজারে মশুর ডালের দাম বাড়তি থাকায় পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারো ভারত থেকে মশুর ডাল আমদানি শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত বছর এই বন্দর দিয়ে মশুর ডাল আমদানি হয়েছিল।
মশুর ডাল সাধারণত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপাল থেকে বেশি আমদানি হয়ে থাকে। দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে নেপালের পাশাপাশি ভারত থেকেও পণ্যটির আমদানি শুরু হয়েছে। তবে এতদিন অন্য বন্দর দিয়ে মশুর ডাল আসলেও সেখানে পণ্যজটের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু করেছেন আমদানিকারকগণ।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি বেশকিছু নতুন পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ছোলা ও মশুর ডাল অন্যতম। এতে করে বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন যে আয় সেটি অনেকটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি বাড়ায় তাদের মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে।










