কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় পর্যটকবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো ছয় যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল দুপুরে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবির পরপরই মারা যান এক নারী।

মৃতরা হলেন কুমিল্লা দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী মৌসুমী (২৫), তার মেয়ে মাহমুদা (৭) ও ভৈরবের কমলাপুরের সুবর্ণা (৪০)। এ ঘটনায় ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল সোহেল রানা (৩০), তার ছেলে রাইসুল (৫), ভৈরব আমলাপাড়ার ঝন্টু দের স্ত্রী রূপা দে (৩০), ঝুটন দের ভগ্নিপতি কটিয়াদীর মানিকখালীর বেলন দে (৫০), টুটন দের মেয়ে মেঘলা দে আরাধ্যা (১১) ও নরসিংদীর বেলাব উপজেলার দাঁড়িয়াকান্দি গ্রামের দারু মিয়ার মেয়ে আনিকা ইসলাম (১৬) নিখোঁজ রয়েছেন।

এ বিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সাজু মিয়া জানান, শুক্রবার বিকালে মেঘনার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু ঘাট থেকে একটি ট্রলারে ২০ জন নরসিংদীর আশুগঞ্জ প্রান্তে চর সোনারামপুর পরিদর্শনে যান। ফেরার সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু এলাকায় একটি বালুবাহী বাল্কহেড পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয়রা ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি এনামুল হক জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে তাদের ডুবুরিরা কাজ করছেন। তবে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন তিন মাঝিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নৌ-পুলিশ। মোবাইলের কললিস্ট যাচাই করে দেখা যায়– শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় ছিলেন না। পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ঘটায় সেখানকার জেলা প্রশাসন তদন্ত করবে।

নৌ-পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনও করবে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ। তিনি জানান, তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। কনস্টেবল সোহেল, তার ছেলেসহ বাকিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।