শিক্ষকদের আন্দোলনে তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ক্লাস-পরীক্ষা। শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে গত ১৮ জুলাই ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয় যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।

অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিনেও সংকট সমাধান হয়নি। উল্টো উপাচার্যঘনিষ্ঠ শিক্ষকরাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমন অবস্থায় সেশনজটে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

যবিপ্রবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কৃচ্ছ্র সাধনের পরিপত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে যবিপ্রবি প্রশাসন ১০-৩১ জুলাই পর্যন্ত সব বিভাগের ক্লাস শ্রেণীকক্ষের পরিবর্তে অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরোধিতা করে কয়েক দিন বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা কৃচ্ছ্র সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব এসি, লিফট ও এসি বাস চলাচল বন্ধের দাবি তোলেন।

এর মধ্যে ১৮ জুলাই যবিপ্রবি শিক্ষকরা অভিযোগ তোলেন, ১৬ জুলাই কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। এছাড়া সব ভবনের লিফটও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। ১৮ জুলাই তারা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গাড়ি বন্ধ রাখতে বাধ্য করেন। এরপর যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ওই দিনই জরুরি সভা করে লাঞ্ছনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ আগস্ট থেকে সব ক্লাস সশরীরে হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষকরা আসেননি। এতে শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। প্রায় তিন সপ্তাহ ক্লাস না হওয়ায় তারা সেশনজটের আশঙ্কায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণার পর শিক্ষকরা গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন করেছেন। অনলাইন ক্লাসের প্রতিবাদে যারা আন্দোলন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবি জানানো হবে।’

এদিকে যবিপ্রবির সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। এর পেছনে ভিন্ন কারণও থাকতে পারে। যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মো. গালিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তারা অপমানিত হয়েছেন। এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাসে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এর তদন্ত হচ্ছে বলে জেনেছি। সুষ্ঠু বিচার হলে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যাবেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লিফট ও বাস বন্ধ করে দেয়। এতে শিক্ষকরা অপমানিত হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন। চিকিৎসাজনিত কারণে আমি দেশের বাইরে আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেব।’