সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সচল হয়েছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের সিস্টেম। শুরু হয়েছে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট কার্যক্রম। কিন্তু বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। আমদানি-রফতানিককৃত পণ্যের পরিক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এ কার্যক্রম বন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, সিস্টেমের ত্রুটির কারণে পণ্য আমদানি করে যথাসময়ে ছাড়করণ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

আজ শনিবার বিকেল ৪টায় সিস্টেম সচল হলে পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের সিস্টেম বিকল থাকার কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একই কারণে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিন সারাদিন সার্ভার বন্ধ ছিল। পরে রাত ৮টার দিকে সার্ভার সচল হলে বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাস দেয়া হয়।

হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট সোহেল রানা বলেন, গত বৃহস্পতিবার হিলি স্থলবন্দরের আমাদের পণ্য প্রবেশ করেছে। আজ সেসব পণ্য খালাস নেয়ার জন্য সকালে হিলি কাস্টমসে পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করতে আসি। কিন্তু সিস্টেমে ত্রুটির কারণে  সেটি করাতে পারছিলাম না। অনেকেই এ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বিকেলে সিস্টেম সচল হলে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করা হয়। এরপর পরিক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে পেয়াজের দাম উর্ধ্বমুখি রয়েছে। যে কারণে আমরা সরবরাহ বাড়াতে বন্দর দিয়ে বাড়তি পেঁয়াজ আমদানি করছি। কিন্তু কাস্টমসে সিস্টেমে ত্রুটির কারণে আঁদা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করে সঠিক সময়ে খালাস না নিতে পেরে বিপাকে পড়ছি। অতিরিক্ত গরমের কারণে আঁদা, পেঁয়াজের মান খারাপ হচ্ছে, তেমনি আবার সঠিক সময়ে বাজার ধরতে না পেরে আমাদের আর্থিকভাবে লোকশান গুনতে হচ্ছে। গত বুধবার থেকে সিস্টেমের এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে; সারাদিন শেষে রাতে সার্ভার আসছে। সেইসময়ে পণ্য খালাস নিতে হচ্ছে। আজো একই অবস্থার সকাল থেকে কোনো পণ্য বন্দর থেকে খালাস নিতে পারি নাই। বিকেল ৪টার পর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ সময় আমদানিকৃত পণ্য যেন দ্রুত ছাড়করণ করা হয়; সে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন তিনি।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, এখানকার সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয় অনলাইনের মাধ্যমে। আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব ন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে আউট পাশ পর্যন্ত কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যা কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু, গত বুধবার থেকে সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়, একই সমস্যা বৃহস্পতিবারে ছিল। যদিও ওই দুদিন রাতে সিস্টেম সচল হলে আমরা রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত কাজ করে সকল পণ্য ছাড়করণ দিয়েছি। আজ আবারো সেই একই সমস্যা দেখা দেয়ায় সকাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। আর যেহেতু এটি সেন্ট্রালি নিয়ন্ত্রিত; সেহেতু এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

তিনি আরো বলেন, বিকেলে সিস্টেম সচল হলে দ্রুত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করে পরিক্ষণ শুল্কায়ন সম্পূর্ণ করে পণ্য ছাড়করণ দেওয়া হচ্ছে।