১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক চর্চার বাইরে থাকা দেশের জনগণের অধিকার পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, এখন দেশটাকে নতুন করে বিনির্মাণের পালা। দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের জন্য অভাবনীয় পরিমাণে ধ্বংস হয়েছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেগুলো ঠিক করতে নবগঠিত সরকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের যে বার্তা দিচ্ছে, তা ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর পুরস্কার বিতরণী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, দলীয়করণ, দুর্নীতির কথা তুলে ধরে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো চাই, আরো ভালো চাই। এটা প্রয়োজন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করে যা সম্ভব, সেটা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বাস্তবায়নের দায় কারো একার নয়, সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যতটা ধ্বংস হয়েছে, আমরা ভেবেছি তার চেয়েও বেশি। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দেয়া— সব মিলিয়ে এ সর্বনাশ হয়েছে। এ অবস্থা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
যুব সমাজের হতাশার প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেকের মনে কষ্ট আছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় হতাশ। তাদের এ আক্ষেপ দূর করতে হবে। একা সম্ভব নয়, সবাইকে মিলে চেষ্টা করতে হবে। নইলে তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমি শ্রমিক আন্দোলনের মানুষ। কষ্ট করেছি, অপেক্ষা করতে রাজি আছি। যদি দেখি আমার দেশ সফল হবে, সহকর্মীরা সফল হবে, সন্তানরা সফল হবে, তাহলে সেটাই বড় প্রাপ্তি। এটি একদিনের কাজ নয়, কিন্তু অনিবার্য কাজ।
জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেছিলেন। এ টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আনার বিষয়টি ভালো আইডিয়া। এ সময় তিনি বিষয়টি তার গোচরে নেয়ার আশ্বাস দেন।










