সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে আজ বিকালে নোঙর করার কথা রয়েছে। এ বন্দরে কয়লা খালাস করে নতুন পণ্য বোঝাই করা হবে জাহাজটিতে। এতে সময় লাগবে প্রায় দুই সপ্তাহ। এরপর বাংলাদেশের উদ্দেশে দুবাই ত্যাগ করবে জাহাজটি।

নাবিকরা কে কোন জায়গা থেকে সাইন অব (জাহাজের কর্ম হতে অব্যাহতি) করবেন, তার তালিকা আগেই চূড়ান্ত করে রেখেছে মালিক পক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ। মোট ২৩ নাবিকের মধ্যে ২১ জন জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছলে সাইন অফ করবেন। অর্থাৎ তারা একসঙ্গে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে করে দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় দুজন জাহাজে করে দেশে না ফিরে উড়োজাহাজে দুবাই থেকে দেশে ফিরতে চান।

কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জাহাজ এখন যে গতিতে চালানো হচ্ছে, তাতে রোববার বিকালে দুবাইয়ে পৌঁছবে। এখানে দুই ধরনের অপারেশন হবে। জাহাজ থেকে কয়লা ডিসচার্জ এবং নতুন পণ্য লোড করতে দুই সপ্তাহের মতো সময় লেগে যাবে। সব কাজ শেষ করে দুবাই থেকে রওনা দিয়ে বাংলাদেশে আসতে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের আরো ১০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে এক মাসের কিছু কম সময়ের মধ্যে ২১ নাবিকসহ বাংলাদেশের বন্দরে এসে পৌঁছবে এমভি আবদুল্লাহ।’

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া ২১ নাবিক জাহাজে পরবর্তী কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ফিরলেও বাকি দুজন আকাশপথে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। এর একজন জাহাজে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করা জেনারেল স্টুয়ার্ড নূর উদ্দিন। অন্যজন সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মোজাহেদুল ইসলাম। মূলত জিম্মি ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় তাদের এমন সিদ্ধান্ত বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।